পুরসভায় নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে নয়া মোড়! হাই কোর্টে ধমক, CBI কি সত্যিই সব তথ্য গোপন করছে?

কলকাতা শহর যেন একের পর এক দুর্নীতির খবরে নাড়া খাচ্ছে। কখনও স্কুলে নিয়োগ, কখনও বা পুরসভায় চাকরির বিনিময়ে টাকার কারবার! সাধারণ মানুষের চোখের সামনেই যেন ভেঙে পড়ছে স্বচ্ছ নিয়োগের স্বপ্ন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাননি অনেকেই, অথচ যাঁদের প্রয়োজনীয় মেধা ছিল না, তাঁরাই টাকা খরচ করে বসেছেন সরকারি পদে। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। অথচ এত অভিযোগ ওঠার পরও কি সত্যিই সব দোষীদের শাস্তি হবে? নাকি মামলার গতি আবার শ্লথ হয়ে যাবে? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন স্তরে।

এই নিয়ে কোর্টে একের পর এক শুনানি চলছে। ইতিমধ্যেই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একাধিক হাই প্রোফাইল ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এবার পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির ঘটনাতেও নড়েচড়ে বসেছে আদালত। টাকা খরচ করে চাকরি কেনার অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের ৭০টি পুরসভার বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষের করের টাকা কোন খাতে খরচ হচ্ছে, তা নিয়ে ক্রমেই প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। কিন্তু তদন্তের কি আদৌ সঠিক গতিপথ পাচ্ছে? এর মধ্যেই জামিনের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে হাজির হলেন অন্যতম অভিযুক্ত প্রোমোটার অয়ন শীল। আর সেই শুনানিতেই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল আদালত।

মঙ্গলবার অয়ন শীলের জামিন আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, শুধু রিপোর্ট দিলেই হবে না, কেস ডায়েরি আনতেই হবে! এই মামলায় তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। কিন্তু আদালতে কেন্দ্রীয় সংস্থা জানায়, তারা ১৭টি পুরসভার দুর্নীতির তদন্ত করেছে এবং প্রচুর পাতার নথি রয়েছে। তাই কেস ডায়েরির পরিবর্তে রিপোর্ট দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেই প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ হয় আদালত। বিচারপতি বসাক সিবিআইকে প্রশ্ন করেন, ‘‘বিশাল নথি নিয়ে আসতে কী অসুবিধা রয়েছে? কতগুলি ট্রাক লাগবে?’’ অর্থাৎ, আদালতের বার্তা স্পষ্ট— শুধু সারসংক্ষেপ নয়, পুরো তদন্ত রিপোর্ট চাই!

আরও পড়ুনঃ উডল্যান্ডস হাসপাতালে ঐতিহাসিক মাইলফলক! পশ্চিমবঙ্গের প্রথম NABH স্বীকৃতি পেল জরুরি বিভাগ

সিবিআই ইতিমধ্যেই ২০২৩ সালের এপ্রিলে তদন্ত শুরু করেছিল। রাজ্যের বহু পুরসভার বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। স্কুল নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা অয়ন শীলের বাড়িতে তল্লাশির সময় ইডি কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছিল, যেখানে পুরসভা নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য ছিল। এরপরই কলকাতা হাই কোর্ট তদন্তের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে যদি পুরো কেস ডায়েরি জমা না দেওয়া হয়, তাহলে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই হাই কোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রিপোর্ট নয়, আসল নথিই আদালতে জমা দিতে হবে।

এই মামলার পরবর্তী শুনানি বুধবার। আদালতের নির্দেশ মানতে বাধ্য সিবিআই। এখন দেখার, তদন্তের অগ্রগতি কতটা স্বচ্ছ হয়। সাধারণ মানুষ চাইছে, সত্যিটা সামনে আসুক। শুধুমাত্র বড় বড় মামলার কথা শোনা গেলেই হবে না, দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করাই আসল লক্ষ্য। কারণ, যদি দোষীরা পার পেয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতেও এই ধরনের দুর্নীতি চলতেই থাকবে। সেই কারণেই এই মামলার পরবর্তী ধাপের দিকে তাকিয়ে রাজ্যের মানুষ।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles