অবশেষে দীর্ঘ ৮ বছর পর কাটল জট। ২০১৪ সালের উচ্চ প্রাথমিক শূন্যপদে নিয়োগ নিয়ে এবার বড় এক নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আজ, বুধবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। এদিন এই মামলায় চূড়ান্ত রায় দেয় আদালত।
২০১৬ সালে উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। ১৪ হাজার ৩৩৯টি শূন্যপদ ছিলে বলে জানা যায়। ২০১৯ সালে ভেরিফিকেশন হওয়ার পর ১৩ হাজার ৩৩৩ জনের মেধাতালিকা তৈরি করা হয়েছিল। জানা যায়, তাদের মধ্যে কাউন্সেলিংয়ের পর প্যানেলের অন্তর্ভুক্ত করা হয় ৮ হাজার ৯০০ জন প্রার্থীকে।
তবে এই নিয়োগ নিয়েই বেনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ফর্ম ফিলাপ না করেই অনেক প্রার্থীদের ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি, টেটের নম্বর বাড়িয়েও অনেককে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়েছিল বলে অভিযোগ। আর এই কারচুপি যাতে ধরা না পড়ে সেই কারনে প্রকাশিত তালিকায় প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরও উল্লেখ করা হয়নি। এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় মামলা।
২০২০ সালে এই মামলায় বিচারপতি মৌসুমি ভট্টাচার্য গোটা তালিকা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। নতুন করে ভেরিফিকেশন ও নম্বর বিভাজন করে নতুন তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয় সেই সময়। তবে সেই মামলা পরবর্তীতে গড়ায় বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চে। সেই সময় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্থগিতাদেশ জারি করা হয়।
এরপর এই নিয়োগে ১ হাজার ৪৪৩ জন প্রার্থী বেনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে। ২০২৩ সালে ফের বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করা হয় যে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন। এরপর নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। তবে কাউন্সেলিং চালু ছিল। পরবর্তীতে এই মামলা ওঠে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে। আর আজ এই মামলার চূড়ান্ত রায় দিল হাইকোর্ট।
এদিন আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ১৪ হাজার ০৫২ জনের মেধাতালিকা প্রকাশ করতে হবে। আর এর পরের চার সপ্তাহের মধ্যে শুরু করতে হবে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া। এমনকি, চূড়ান্ত মেধা তালিকায় ১৪০৫ জনকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে। এই ১৪০৫ জনকে বঞ্চিত করা হয়েছিল বলেই অভিযোগ।






