আর জি করের ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়াজ তুলেছেন তিনি। কিন্তু প্রকাশ্যে এতদিন কোনও মন্তব্য করেন নি। কেন তিনি চুপ করে রয়েছেন, তা নিয়ে তাঁর দলেরই নেতা কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তুলেছিলেন। এবার আর জি কাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের ভাষণে তাঁর মুখে উঠে এল আর জি করের ঘটনার কথা।
আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় প্রথম থেকেই সন্দীপের উপর ক্ষোভ বর্ষণ করেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। আর জি কর থেকে ইস্তফা দিলেও পরবর্তীতেই তাঁকে বহাল করা হয় ন্যাশানাল মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে। তা নিয়ে বেশ জলঘোলা হয়। এরপর সিবিআইয়ের হাতে আর জি করের মামলার তদন্তভার গেলে প্রতিদিনই সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিচ্ছেন সন্দীপ ঘোষ। কিন্তু গ্রেফতার হন নি। তা নিয়েই এবার প্রশ্ন তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যের অনুস্থা মঞ্চ থেকে অভিষেক সন্দীপ ঘোষকে নিয়ে বলেন, “চার দিন কলকাতা পুলিশের হাতে কেস ছিল। ১৪ তারিখ আদালত সিবিআই-এর হাতে কেস দেয়। কেন ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও কেন সন্দীপ ঘোষ গ্রেফতার হয়নি, সিবিআই-কে জবাব দিতে হবে”।
এখানেই শেষ নয়, মহিলাদের রাত দখলের কর্মসূচির প্রশংসাও শোনা যায় এদিন অভিষেকের মুখে। তিনি বলেন, “১৪ তারিখ মেয়েদের রাতদখলের ডাক দিয়েছিল। আমরা সম্মান জানাই। যাঁরা প্রতিবাদ করেছিলেন, ধর্ষণমুক্ত সমাজ গড়ার, যাঁরা দোষী, তাঁদের কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি”।
এদিন সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও বেশ সন্দিহান প্রকাশ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল চুরি থেকে সারদা মামলায় সিবিআইয়ের দীর্ঘদিন মামলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “এর আগে সারদা, রবীন্দ্রনাথের নোবেল, কী বিচার হয়েছে”? ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠিন আইন আনা নিয়েও এদিন সরব হন অভিষেক। জানান, যদি কেন্দ্র ধর্ষণের শাস্তি নিয়ে কোনও কঠোর আইন না আনে, তাহলে তিনি নিজের এমপি কোটা ব্যবহার করে সেই বিল পেশ করবেন।





