ভাতজাংলা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১০ই মে অনাস্থা আনেন ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি ও অন্যান্য নির্দল সদস্যরা। সেই অনুযায়ী, এই অনাস্থা প্রস্তাবের জন্য বৈঠকও ডাকেন বিডিও আধিকারিক। কিন্তু পরে তিনি করোনা পরিস্থিতির অজুহাত দেখিয়ে তা বাতিল করেন।
এই কারণে বিডিও-র এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি ও অন্যান্য দলের সদস্যরা। এও অভিযোগ আনা হয় যে তৃণমূল যদি অনাস্থা আনে, তাহলে তা দ্রুত বৈঠক ডাকা হয়, কিন্তু অন্য দল অনাস্থা আনলে, তা কিছুতেই হতে দেওয়া হচ্ছে না।
এই নিয়ে গত ১৫ই জুলাই হাইকোর্টের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে নতুন করে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। এরই সঙ্গে বিডিও আধিকারিককে হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় যাতে আইনি প্রক্রিয়া মেনে দ্রুতই এই কাজ সম্পন্ন হয়। এমনকি সরকারি পক্ষের আইনজীবীও আদালতে জানান যে ভবিষ্যতে এমন ভুল হবে না।
আদালতের নির্দেশ মেনে গত ১৬ই জুলাই ফের অনাস্থা প্রস্তাব জমা হয়। অনাস্থার বৈঠক ডাকা হয় ৫ই আগস্ট। কিন্তু এখানেও বিপত্তি। গত ৪ই আগস্ট বিডিও-র তরফে একটি নোটিশ জারি করে জানানো হয় যে এই মুহূর্তে ভাতজাংলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক নেই। তাই এই মুহূর্তে কোনও বৈঠক করা সম্ভব নয়।
এর জেরে বিজেপি’র তরফে ফের হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন আইনজীবি তরুণজ্যোতি তিওয়ারী। সেই মামলার শুনানি ছিল আজ। এদিন আদালতের বিচারপতি শম্পা সরকার এই বিষয়ে নিয়ে রাজ্য সরকার ও বিডিও-কে তীব্র তোপ দাগেন। আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিডিও জানান যে আগামী ১৩ই আগস্ট বৈঠকের দিন স্থির করতে।
আদালতের তরফে কৃষ্ণনগরের এসপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে অনাস্থা প্রস্তাব আনা সদস্যদের ঠিকঠাক নিরাপত্তা প্রদান করা হয়। এমনকি, ওই বৈঠকের দিন ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিন মাননীয় বিচারপতি এও বলেন, “আদালত বিশ্বাস করে এরপর আর আদালতের নির্দেশের অমান্য করা হবে না। বিডিও-র এরূপ আচরণকে ব্যতিক্রম বলে বিবেচিত করা হচ্ছে”।





