করোনা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্যে ১৫ দিনের লকডাউন জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যে ছাড়া বন্ধ থাকবে সমস্ত দোকান বলেই জানানো হয়েছিল। আর তা ঘোষণা হওয়ার দিন সব দোকান ছেড়ে সুরা প্রেমীদের লম্বা লাইন পড়ে মদের দোকানের। করোনা সংক্রমনের আশঙ্কা কয়েকগুণ বাড়িয়ে বিপুল পরিমাণে সুরা সংগ্রহ করে বাড়ি ফেরেন ক্রেতারা। অনেকেই কালোবাজারি করার জন্য বিপুল পরিমাণে কেনেন সুরা।
এই বিশাল লাইন দেখে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল বিশেষজ্ঞরা, ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল সচেতন নাগরিকরাও। ওই বিপুল ভিড়ের ছবি দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন খোদ বিধায়ক মদন মিত্র। মদের কালোবাজারি নিয়েও মুখ খুলেছিলেন তিনি। আর এবার রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে মদের কালোবাজারির খবর মিলছে। অতিরিক্ত দামের বিনিময়ে চলছে মদের হোম ডেলিভারিও।
তবে এখানেই শেষ নয়, অপরাধীদের পন্থা অবলম্বনে কসুর নেই। মুদিখানার দোকানের আড়ালেও বিক্রি হচ্ছে মদ বলে অভিযোগ। সেই চক্রের পর্দাফাঁস করেছে রানিগঞ্জের পুলিশ। পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জের তারবাংলা মোড়ে অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি মুদিখানা দোকান থেকে প্রচুর দেশি ও বিদেশি মদ বাজেয়াপ্ত করেছে। ওই ব্যবসায়ীকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এছাড়াও বর্ধমানের মেমারিতে কার্যত অবৈধপথে মদের রমরমা কারবার চলছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। খাবার পৌঁছে দেওয়ার মতো এখানে সুরাও দুয়ারে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। কার্যত রাজ্যে ১৫ দিনের লকডাউনকে কাজে লাগিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে এভাবে মদ বেচাকেনার চক্র সক্রিয় হয়েছিল বলে অভিযোগ। এবার সেই সেই মদ সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অভিযুক্তদের ধরতে দুটি বাড়ি ও দুটি হোটেলেও হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকে প্রচুর দেশি ও বিদেশি মদ পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে।





