বঙ্গ বিজয়ের স্বপ্নে তিনি বিভোর। এর আগেও মন্তব্য করেছেন যেদিন বিজেপি বাংলাকে জয় করতে পারবে সেদিনই বিজেপির প্রকৃত অর্থে জয় হবে। আর তাই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে পাঁচ-ছয় মাস আগেই যুদ্ধের ডঙ্কা বাজিয়ে দু’দিনের বঙ্গ সফর করে গেলেন অমিত শাহ (Home minister Amit Shah)। জমিয়ে করলেন মমতা প্রশাসনের ওপর আক্রমণ। বড্ড শক্ত গড় বলে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গ। আর তাই কঠিন যুদ্ধের লড়াই জিততে ইতিমধ্যেই জোর দমে প্রচার শুরু করে দিয়েছে বিজেপি (BJP)।
বিজেপির চাণক্য আজ বাঙালির মন জিততে সফরের দ্বিতীয় দিনে গিয়েছিলেন দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে (Dakshineswar temple)। বাঙালির বড্ড আবেগের জায়গা দক্ষিনেশ্বর থেকেই বাংলায় বিজেপিকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এরপরই মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট হাসিলের লক্ষ্যে এক মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত এর বাড়িতে দুপুরের আহার সারেন।
এবার আজই দিল্লি ফিরে যাওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamta banerjee) গড় কলকাতাতে বসেই সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলার সরকারকে বিদ্ধ করেন আমিত শাহ। বলেন ‘বাংলার মানুষের মনে অনেক প্রত্যাশা ছিল, মা-মাটি-মানুষের সরকার এখন তুষ্টিকরণের সরকার।’
বাংলার বর্তমান সরকারকে কটাক্ষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃপ্ত কণ্ঠে বলে, এবার আমার হাসির সময় এসেছে। ২০০-র বেশি আসন পাব আগামী বিধানসভা ভোটে (assembly election)। মে মাসের পরে বাংলার কৃষকদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। কারণ মে মাসেই বাংলার ক্ষমতায় আসবে বিজেপির সরকার। মানুষের ইচ্ছে পূরণ করতে পারছে না তৃণমূল সরকার। সরকারের উপর ক্ষোভ বাড়ছে বাংলার মানুষের।
আমি যেখানেই গিয়েছি, সেখানেই হাজার হাজার মানুষের মমতা সরকারের প্রতি রাগ দেখতে পারছি। একই সঙ্গে ভালোবাসা দেখতে পেয়েছি নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রতি। যেখানেই আমাদের সরকার, সেখানেই পরিবর্তন। কৃষকদের নতুন আশার আলো দেখিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।
বাংলার মানুষের মনে অনেক প্রত্যাশা ছিল। বাংলার মানুষ চাইছিলেন, তাদের ইচ্ছেপূরণ হোক। বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন মমতা। মা-মাটি-মানুষের সরকার এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে তুষ্টিকরণের সরকার। খারাপ প্রশাসনের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
একইসঙ্গে বাংলার সরকারের তীব্র আক্রমণ করে অমিত বলেন বাংলায় রাজনীতিকরণের অপরাধকরণ হয়েছে। বাংলায় প্রশাসনের রাজনীতিকরণ হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, করোনা আবহেও দুর্নীতি চালিয়ে গিয়েছে তৃণমূল।
বাংলায় একমাত্র ৩ ধরনের আইনের শাসন। একটা ভাইপোর জন্য, একটা ভোটব্যাঙ্ক, আরেকটা সাধারণের জন্য। ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোকে কেন তথ্য দিতে চায় না তৃণমূল? নারী নির্যাতনে বাংলা দেশের মধ্যে প্রথম সারিতে। রাজনৈতিক হত্যায় দেশের মধ্যে শীর্ষে বাংলা। এ ব্যাপারে শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের রূপায়ণে সবচেয়ে পিছনের সারিতে বাংলা।





