Weather update : দিনে ৪০ ডিগ্রি, বিকেলে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখীর তাণ্ডব! ৫ দিন জুড়ে ঝড়-বৃষ্টি, আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা বাংলায়!

গরম মানেই অস্বস্তি, আর সেই অস্বস্তির চূড়ান্ত রূপ দেখা যাচ্ছে বিগত কয়েকদিন ধরে। রাস্তায় বেরোলেই যেন মাথার উপর থেকে আগুন ঝরছে। সকালে বাড়ি থেকে বেরোতেই সূর্যের দাহে চোখ ছোট হয়ে আসছে, শরীর ঘামে ভিজে একেবারে ক্লান্ত। দিনের বেলায় এমন অবস্থা যে শহর হোক কিংবা মফস্বল, মানুষের চলাফেরা কার্যত কমে গিয়েছে। রাস্তা যেন মাঝেমধ্যে জনশূন্য হয়ে পড়ছে।

তবে দুপুরের এই চরম উত্তাপের পরেও স্বস্তি নেই। বিকেল গড়াতেই হঠাৎ আকাশ কালো করে আসে, সঙ্গে শুরু হয় বজ্র-বিদ্যুৎ। অনেক জায়গায় বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। কোথাও কোথাও আবার দেখা যাচ্ছে শিলাবৃষ্টিও। ফলে দিনের গরমের সঙ্গে সন্ধ্যার ঝড় মিলিয়ে মানুষ পড়ছেন এক দ্বিমুখী সমস্যায়। সকাল থেকে রোদে পুড়তে পুড়তে ক্লান্ত শরীর, আবার সন্ধ্যায় তাণ্ডব নেমে আসছে এক ঝটকায়।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সূত্রে খবর, দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যেই কালবৈশাখী দেখা দিতে শুরু করেছে। এ প্রবণতা চলবে আগামী বুধবার পর্যন্ত। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি তো থাকছেই, সঙ্গে চলবে ৩০ থেকে ৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া। ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, পূর্ব বর্ধমান ও হুগলি জেলায়। অন্যদিকে, পশ্চিমের অনেক জেলায় পারদ চড়ে গেছে ৪০ ডিগ্রির ওপরে। ফলে অস্বস্তি বাড়ার পাশাপাশি কালবৈশাখীর দাপটেও সতর্কতা অবলম্বন করতে বলছে হাওয়া অফিস।

শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গের ছবিও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। দার্জিলিং থেকে মালদা, কোথাও হালকা আবার কোথাও মাঝারি বৃষ্টিতে ভিজছে শহর-গ্রাম সবই। আগামী কয়েকদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। বিশেষত দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ ১০০ মিলিমিটারের গণ্ডি ছাড়াতে পারে বলেই জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। উত্তরের একাধিক জায়গায় বইতে পারে ৩০ থেকে ৫০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া।

আরও পড়ুনঃ Astrology : মে মাসের শেষ সপ্তাহে খুলবে অর্থের দরজা! শুভ গ্রহের কৃপায় লক্ষ্মীলাভে ভাগ্যবান হবেন এই ৫ রাশি !

আগামী পাঁচ দিন জুড়ে এই দ্বিগুণ বিপদের মোকাবিলায় মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। রবিবার থেকে কলকাতাতেও দমকা হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আলিপুর দফতরের পরামর্শ—বিকেলের পর থেকে আকাশের দিকে নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি। কোনও জরুরি প্রয়োজন না থাকলে ঘরের বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। বিশেষ করে বাচ্চা, বয়স্ক ও অসুস্থদের যেন বাড়িতে রাখা হয়, এমন বার্তাও দেওয়া হয়েছে। এখন শুধু গরমে নয়, সন্ধ্যার ঝড়েও যেন বিপর্যয় না নামে, সেই দিকেই নজর রাখতে হবে সাধারণ মানুষকে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles