রাত গভীর হলে সাধারণ মানুষ ঘুমিয়ে পড়েন শান্তির আশায়। কিন্তু সীমান্তে থাকা মানুষদের ঘুম আসে না সহজে। কারণ প্রতিটি মুহূর্তে তাঁদের বুক ধুকপুক করে সম্ভাব্য বিস্ফোরণের আশঙ্কায়। ঠিক তেমনই এক রাত কেটেছে ৯ মে-র রাতে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে শোনা গিয়েছিল বিস্ফোরণের শব্দ। সেই রাতেই সাধারণ মানুষ বুঝে গিয়েছিল, কিছু একটা বড় ঘটনা ঘটে গিয়েছে।
টিভির পর্দা, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা ফোনের স্ক্রিন—সব জায়গায় তখন একটাই প্রশ্ন, “ভারত কী সত্যিই পাকিস্তানে হামলা করেছে?” যদিও সরকারিভাবে কিছুই তখন স্পষ্ট নয়। এমন সময়ে পাকিস্তান থেকে একের পর এক তথ্য ফাঁস হতে থাকে। সাধারণ মানুষের মনে তখন প্রশ্ন—ভারতীয় সেনার পরবর্তী পদক্ষেপ কী? পাকিস্তান কী জবাব দেবে? এমন অজানা উত্তেজনায় রাত পার করেন বহু মানুষ।
এই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন তথ্য সামনে আনলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ১০ মে রাত আড়াইটে নাগাদ তাঁর ফোন বেজে ওঠে। ফোন করেছিলেন পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরেই এই কল আসে। গভীর রাতে সেই কলেই শরিফকে জানানো হয় যে, ভারত পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ‘নূর খান এয়ার বেস’ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। সেনাপ্রধানের কাছ থেকে সেই মুহূর্তেই তিনি ‘জরুরি বিজ্ঞপ্তি’ পান বলে জানান পাক প্রধানমন্ত্রী।
ঘটনাচক্রে, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে যখন আলোচনা চলছিল, তখন শরিফ ছিলেন ব্যক্তিগত সময়ে—সাঁতার কাটছিলেন। তিনি বলেন, “সকালে সাঁতার কাটার সময় আমার সিকিউরড ফোন বেজে ওঠে। ফোনে ছিলেন জেনারেল আসিম মুনির। তিনি জানান, পাকিস্তান উপযুক্ত জবাব দিয়েছে, এখন ভারত যুদ্ধবিরতি চাইছে।” এই সময় শরিফ সেনাপ্রধানকে বলেন, “শত্রুকে জবাব দিয়ে এখন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাওয়া অবশ্যই গর্বের বিষয়।” তবে এই কথোপকথনের মধ্যেই স্পষ্ট ছিল যে, ভারত হামলা করলেও পাকিস্তান পাল্টা আঘাত করে তার জবাব দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Weather update : দিনে ৪০ ডিগ্রি, বিকেলে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখীর তাণ্ডব! ৫ দিন জুড়ে ঝড়-বৃষ্টি, আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা বাংলায়!
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, পাকিস্তানের কেবল জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের ক্ষতি যাতে না হয়, সে বিষয়েও সতর্কতা রাখা হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের পাল্টা অভিযোগ, ভারত তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতেও হামলা চালিয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে শেহবাজ শরিফের বক্তব্য, পাকিস্তান ‘আবশ্যক ও পরিমিত’ জবাব দিয়েছে। সীমান্তে যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি বজায় থাকলেও দুই দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা এখনও প্রবল, তা স্পষ্ট এই রাতের ফোনকল থেকেই।





