বাংলা চলচ্চিত্র জগতের প্রবীণ অভিনেত্রী লিলি চক্রবর্তী আবারও নিজের সরল অথচ দৃঢ় মতামত জানালেন রাজনীতি ও সমাজ নিয়ে। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি আবারও দেখতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে। তিনি সরাসরি জানান, মানুষ যখন বারবার ভোট দিচ্ছেন, তার মানে নিশ্চয়ই কিছু কাজ হচ্ছে। রাজনীতি তিনি গভীরভাবে বোঝেন না বলেই দাবি করলেও সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ও কথাবার্তার উপর ভিত্তি করেই তাঁর এই মত গড়ে উঠেছে।
ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে লিলির দৃষ্টিভঙ্গিও বেশ পরিষ্কার। তিনি বলেন, তিনি প্রার্থী নয় বরং দল দেখে ভোট দেন। তবে প্রার্থী নির্বাচনের আগে যদি কোনও পরীক্ষা বা মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা যায়, সেটিকে তিনি খারাপ ভাবেন না। এতে বোঝা যাবে একজন প্রার্থী আদৌ রাজনৈতিকভাবে কতটা সচেতন। যদিও নির্বাচনে জয়ের পর আবার আলাদা করে পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখেন না। তাঁর মতে, যিনি জিতেছেন, তিনি কিছুটা হলেও রাজনৈতিক বোঝাপড়া নিয়েই এসেছেন।
নিজে কখনও রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা নেই বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন এই প্রবীণ অভিনেত্রী। তবে যদি সুযোগ পেতেন, তাহলে প্রথমেই তিনি চাকরির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতেন। বর্তমান সময়ে ইন্ডাস্ট্রির খারাপ পরিস্থিতি নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। দীর্ঘ ৬৬ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন বিভিন্ন সরকার ইন্ডাস্ট্রির জন্য কাজ করেছে, তা সে কংগ্রেস, তৃণমূল বা সিপিআইএমই হোক। তবে এখনও যদি সমস্যা থেকে থাকে, তা হলে তা গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করা প্রয়োজন বলেই মনে করেন তিনি।
রাজনীতির নৈতিকতা নিয়েও তাঁর বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ঘন ঘন দলবদলকে তিনি একেবারেই সমর্থন করেন না। তাঁর মতে, যারা দল বদলায় তারা মূলত নিজেদের স্বার্থই দেখে এবং তাদের উপর ভরসা করা কঠিন। একইসঙ্গে তিনি মনে করেন, বিরোধী শক্তি থাকা অত্যন্ত জরুরি, কারণ সেটাই সরকারকে আরও ভালো কাজ করার প্রেরণা দেয়। রাজনৈতিক ভাষণে অপশব্দ ব্যবহারের বিরুদ্ধেও তিনি সরব হয়ে বলেন, মানুষের কাছে নিজের কাজের কথা তুলে ধরা উচিত, ঘৃণার ভাষা নয়।
আরও পড়ুনঃ “বিজেপি দু’মুখো সাপ”বসিরহাটে বিস্ফো*রক আ*ক্রমণ মমতার! এনআরসি থেকে ডিলিমিটেশন, একের পর এক অভিযোগে সরগরম সভা, তবে কি ভোটের আগে এই তীব্র ভাষাই বদলে দেবে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তিনি ভাতা রাজনীতি নিয়ে নিজের স্পষ্ট মতামত দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ভাতা সমাজের সামগ্রিক উন্নতি না করলেও কিছু মানুষের উপকার করে, বিশেষ করে যাদের কাজ নেই। কিন্তু ক্লাবকে অনুদান দেওয়াকে তিনি অপচয় বলেই মনে করেন, কারণ সেই অর্থ সমাজের প্রকৃত উন্নয়নে ব্যবহৃত হয় না। তাঁর পছন্দের রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন ইন্দিরা গান্ধী এর নাম, যাঁর ব্যক্তিত্ব ও উপস্থিতি তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার