‘মমতার ঘনিষ্ঠরা আদৌ তাঁর কতটা ভালো চান, তা নিয়ে সন্দেহ আছে…’, দলনেত্রীর কড়া নির্দেশের পরও ফের বিস্ফোরক দাবী হুমায়ুনের

দিনদিন যেন তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব আরও বেশি প্রকট হয়ে পড়ছে। শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে বারবার ধমকানি-চমকানিতেও কাজ হচ্ছে না। এবার ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।

এর আগেও নানান বিস্ফোরক মন্তব্য করে বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন হুমায়ুন কবীর। বিগত কয়েকদিন ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে নানান মন্তব্য করছেন তিনি। অভিষেককে উপমুখ্যমন্ত্রী বা পুলিশমন্ত্রী করার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি। যদিও এই নিয়ে ফিরহাদ হাকিম নাম না করেই হুমায়ুনকে হুঁশিয়ারি দেন, “যারা বড় বড় কথা বলছে, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে নির্বাচনে নামুক। তারপর জিতে দেখাক। বুঝে যাব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবদিক থেকে বলিষ্ঠ নেত্রী। তিনি এখনও সব দফতর এবং দলকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। কাউকে এ নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না”।

এসবের মধ্যেই গতকাল, সোমবার কালীঘাটে ছিল কর্মসমিতির বৈঠক। এই বৈঠকে তৃণমূলে রদবদলের ঘোষণা পাশাপাশি দলের নেতাদের কড়া বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার থেকে কোনও তৃণমূল নেতা যে কোনও বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না বলে জানানো হয়। নানান নেতাদের নির্দিষ্ট বিষয় ভাগ করে দেওয়া হয়েছে মন্তব্য করার জন্য। কিন্তু তা যে হুমায়ুন কবীরের কানে পৌঁছয় নি, তেমনটাই মনে করা হচ্ছে।

মমতার নির্দেশের পরও হুমায়ুন কবীর বলেন, “মমতার ঘনিষ্ঠরা কতটা তাঁর ভালো চান, সন্দেহ আছে। কিন্তু মমতা যাঁদের দায়িত্ব দিয়েছেন, তাঁদের কী ভূমিকা? ফিরহাদ হাকিমকে মুর্শিদাবাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফিরহাদ ক’বার মিটিং করেছেন”।

হুমায়ুনের কথায়, “মুর্শিদাবাদ একটি বড় জেলা, তিন সাংসদ, ২০ বিধায়ক রয়েছেন। গত সাড়ে তিন বছরে রাজনৈতিক ভাবে যে জেলা দেখছেন, জেলার বিধায়কদের সঙ্গে ক’দিন বৈঠক করেছেন, ক’দিন অভাব-অভিযোগ শুনেছেন, কোন সমস্যার কথা শুনেছেন? বেলডাঙায় গন্ডগোল হল, সেখানে কখন হস্তক্ষেপ করলেন ববি হাকিম? বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, ক’দিন খোঁজ নিয়েছেন? আমাদেরকেই সব ফেস করতে হয়”।

আরও পড়ুনঃ সরকারি হাসপাতালে মৃত্যু নাবালিকার, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই এমন ঘটনা, চিকিৎসকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ জুনিয়র চিকিৎসকদের 

ভরতপুরের বিধায়কের দাবী, যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে, যারা তাঁকে ঘেরাটোপের মধ্যে রাখতে চাইছেন, তারা ভবিষ্যতে উপযুক্ত জবাব পাবেন। এমনকি কোনও ভয়ের তোয়াক্কা না করেই হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট বলেন, “আমি চোর নই। কথা বলার জন্য যদি জবাবদিহি করতে হয়, করব”।  

আরও অন্যান্য খবর