সরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে এক নাবালিকার। এই মৃত্যুর নেপথ্যে চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ উঠল। আর এই অভিযোগ মৃতার পরিবারের নয়, বরং এই অভিযোগ তুললেন খোদ জুনিয়র চিকিৎসকরাই। তাদের দাবী, চিকিৎসকের অমানবিক ও স্বার্থপর আচরণের জন্য কঠোর শাস্তি দিতে হবে তাঁকে।
ঘটনাটি ঘটেছে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, গত ৫ নভেম্বর এই হাসপাতালের সাইক্রিয়াটিক বিভাগের মহিলা ওয়ার্ডে এক ১৬ বছরের নাবালিকা ভর্তি হন। কিন্তু ওই বিভাগের চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও শুভম সব্রেওয়াল সেই রোগীর চিকিৎসা করেন নি। হাসপাতালেই ছিলেন না ওই চিকিৎসক। আর চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু হয় নাবালিকার। এই ঘটনায় ওই চিকিৎসককেই দায়ী করে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন।
এই অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ওই চিকিৎসক হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকার কারণে ও রোগীর চিকিতা না করার কারণে তাঁকে শোকজ করেছিলেন সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের সাইকিয়াট্রিক বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডাঃ কাবেরী ভট্টাচার্য। এর থেকেই প্রমাণিত যে ওই চিকিৎসকেরই গাফিলতি রয়েছে। এই অভিযোগ তুলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী তুলেছে জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন।
এক বিবৃতি জারি করে জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের তরফে দাবী করা হয়, ওইদিন চিকিৎসক শুভম সব্রেওয়াল যে হাসপাতালে থাকবেন না, তা তিনি হাসপাতালে কর্তৃপক্ষকে জানান নি এমনকি, অন্য কোনও চিকিৎসকের কাছে ওই রোগীকে পাঠানোর পরামর্শও দেন নি। তাঁর গাফিলতির জেরেই মৃত্যু হয়েছে নাবাকিকার, এমনটাই দাবী জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের।
এই সংগঠনের তরফে আরও দাবী, এই চিকিৎসক শুভম সব্রেওয়াল সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের সাইকিয়াট্রিক বিভাগের সিনিয়র রেসিডেন্ট হওয়ার পাশাপাশি জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের প্রথম সারির নেতা। তিনি আবার সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের রেসিডেন্ট ডক্টরসদের লিগ্যাল এডভাইজারও। শুধু তাই-ই নয়, এই শুভম সব্রেওয়ালের বিরুদ্ধে বেআইনি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার অভিযোগও উঠেছে। প্রাইভেট প্র্যাকটিসের জন্য অনলাইনে বুকিংওনেন ওই চিকিৎসক, এমনটাই অভিযোগ।

জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের পাল্টা সংগঠন তৈরি করেছিল জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। একদিকে যখন ডক্টরস ফ্রন্টের চিকিৎসকরা কর্মবিরতির ঘোষণা করেছিলেন, সেই সময় এই ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের চিকিৎসকরা পরিষেবা বাজায় রেখে আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। সেই প্রেক্ষিতেই সাগর দত্তের এই চিকিৎসকের আচরণ নিয়ে সরব হলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের চিকিৎসকরা। এক্ষেত্রে রোগী পরিষেবাই শুধু ব্যাহত হয়নি, রোগীর মৃত্যুও হয়েছে বলে দাবী তাদের।





