২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে ফের নতুন উত্তাপ। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ঘিরেই এবার শুরু হয়েছে জল্পনা। রাজ্য রাজনীতির এক চেনা মুখ, তৃণমূলের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এবার কার্যত দল ভাঙার বার্তা দিলেন। তবে দল ছাড়লেও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনেননি তিনি। বরং অভিযোগ, নেত্রীর নির্দেশই মানা হচ্ছে না জেলা স্তরে। কী ঘটছে তৃণমূলের অন্দরমহলে? কেনই বা নতুন দল গড়ার পথে হাঁটছেন একজন সংখ্যালঘু নেতা?
সরাসরি নাম না করে জেলার নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর ভাষায়, “দল করে প্রমাণ করতে চাই, চাষ বলদ দিয়েই হয়, ছাগল দিয়ে না।” অভিযোগ, মুর্শিদাবাদ জেলা নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশই মানছে না। ফলে আর একই ছাতার তলায় থাকা সম্ভব নয় বলেই তাঁর সাফ কথা। আর তাই ১৫ অগাস্টের পর নিজের রাজনৈতিক দল গড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন তিনি। শুধু মুর্শিদাবাদই নয়, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, নদিয়ার অংশ মিলিয়ে ৫০টি আসনে প্রার্থী দিতে চান হুমায়ুন।
তবে এই রাজনৈতিক অবস্থান একেবারে মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা নয়—এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। হুমায়ুন বলেছেন, “ক্ষমতায় আসবেন তৃণমূল নেত্রীই। আমি দলটা করব নেত্রীকে বোঝানোর জন্য যে যোগ্য ভোটাররা উপেক্ষিত। যোগ্যদের যেন সম্মান দেওয়া হয়।” অর্থাৎ এই দল গঠনের মাধ্যমে তিনি মূলত জেলার ‘অযোগ্য নেতৃত্ব’ ও ‘নির্বাচনী অপদক্ষতা’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে চাইছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুন কবীরের তৃণমূল বিরোধিতা নতুন নয়। এর আগে বিজেপির টিকিটে মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আড়াই লক্ষের বেশি ভোট পেয়েছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা এবং মানুষকে নিয়ে করা সমীক্ষার ভিত্তিতেই এবার নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি করতে চাইছেন তিনি। মূল টার্গেট, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলি।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee : একুশে অনুপস্থিত অনুব্রত! তার পরেই বীরভূমে মুখ্যমন্ত্রী, ‘বাংলা-বাঙালি’ ইস্যুতে বিস্ফোরক কর্মসূচি!
তবে হুমায়ুনের এই ঘোষণাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। দলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদারের মন্তব্য, “পিপীলিকা ডানা গজায় মরিবার তরে। এমন অনেক নেতাই দল করার স্বপ্ন দেখেন। বিজেপি যদি টাকা দেয়, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।” কিন্তু এই মন্তব্যে থেমে থাকছে না রাজনৈতিক তরজা। হুমায়ুন কবীরের নতুন দল আদৌ রাজ্যে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারবে কি না, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।





