ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক বরাবরই টালমাটাল। সামান্য উসকানিতেই দুই দেশের মধ্যে তৈরি হয় কূটনৈতিক দূরত্ব, যার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমজনতার যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থাও। সম্প্রতি এমনই এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যার জেরে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে উপমহাদেশে। এবারে শুধু সীমান্ত নয়, বন্ধ হয়ে গিয়েছে আকাশপথও।
এই উত্তেজনার সূত্রপাত পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর। ওই ঘটনার জেরে ভারত সরকার একের পর এক কড়া সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করে। প্রথমে ভারতে বসবাসকারী পাকিস্তানি নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তারপর বাতিল করা হয় তাঁদের ভিসা। বিষয়টি এখানেই থেমে থাকেনি। এবার আরও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি। ভারতের আকাশসীমাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে পাকিস্তানের উপর।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, পাকিস্তানের কোনও বিমান ২৪ অগস্ট পর্যন্ত ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। অর্থাৎ পাকিস্তানি বেসরকারি বা সরকারি কোনও বিমান ভারতের উপর দিয়ে উড়ে অন্য দেশে যেতে পারবে না। সামরিক বিমান তো বটেই, এমনকি কোনও পাক এয়ারলাইন্স বা অপারেটরের ফ্লাইটও এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে নয়। ফলে পাক বিমানগুলোকে বিকল্প, অনেক লম্বা পথ ধরেই গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে।
এই নিষেধাজ্ঞা একদিনে জারি হয়নি। প্রথম ধাপে ২৪ মে পর্যন্ত ভারতের আকাশসীমা পাকিস্তানের জন্য বন্ধ ছিল। তারপর তা বাড়িয়ে ২৪ জুন ও পরে ২৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। প্রতিবারই ভারত সরকার ‘নোটাম’ (NOTAM) জারি করে এই বিষয়ে জানায়। এবারও সেই ধারা বজায় রেখে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মহল ঘোষণা করেছেন, “আগামী ২৩ অগস্ট পর্যন্ত পাকিস্তানি বিমানের ভারতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।”
আরও পড়ুনঃ Humayun Kabir : ১৫ অগাস্টেই ঘোষণা! নতুন দল গড়ছেন হুমায়ুন, ৫০ আসনে লড়াইয়ের বার্তা তৃণমূল বিধায়কের!
ভারতের পদক্ষেপের পাল্টা দিতে দেরি করেনি পাকিস্তানও। ভারত যেমন তাদের আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে, পাকিস্তানও ২৪ অগস্ট পর্যন্ত নিজেদের এয়ারস্পেস ভারতের জন্য বন্ধ রেখেছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারত ‘সিন্ধু জলচুক্তি’ স্থগিত করেছিল। তার জেরেই ইসলামাবাদ কড়া জবাব দিতে বাধ্য হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত দু’দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক ও যোগাযোগে আরও দুরত্ব তৈরি করবে।





