Humayun Kabir : শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠকেও কি থামানো যাবে ‘বেপরোয়া’ হুমায়ুনকে? এবার কি সত্যিই কড়া শাস্তির পথে তৃণমূল?

রাজনীতির মঞ্চে ফের উত্তাল মুর্শিদাবাদ। দলের ভেতরেই যেন ঝড় তুলেছেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। একের পর এক মন্তব্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। প্রশ্ন উঠছে— এত সতর্কতা, নোটিস, বৈঠক সত্ত্বেও কেন থামানো যাচ্ছে না ‘বেপরোয়া’ হুমায়ুনকে? এই অবস্থায় ফের তাঁকে নিয়ে বৈঠকে বসছে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি।

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকারের বিরুদ্ধে মন্তব্য করায় ক্ষুব্ধ দলের নেতৃত্ব। হুমায়ুন অভিযোগ করেছেন, “জীবনকৃষ্ণ সাহাকে ইডি দিয়ে গ্রেফতার করিয়েছেন অপূর্ব সরকার।” এমনকি তিনি বলেন, “আমার কাছে প্রমাণ আছে, ঠিক সময়ে প্রকাশ করব।” শুধু সভাপতি নয়, বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানকেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। তাঁর মন্তব্যে বিক্ষোভ তৈরি হয়েছে জেলা তৃণমূলের অন্দরে।

পরিষদীয়মন্ত্রী তথা দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” সূত্রের খবর, শোভনদেব ও কমিটির সদস্যরা খুব শিগগিরই বৈঠকে বসবেন। তবে দলের অন্দরে সংশয়, বারবার সতর্কতা ও নোটিস দিয়েও যিনি থামেননি, তাঁকে এবার আদৌ ‘বাগে আনা’ সম্ভব হবে কি?

২০২২ সাল থেকেই একাধিকবার প্রকাশ্যে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন হুমায়ুন। সে বছরই তাঁকে প্রথম মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়। ২০২৩ সালে সংবাদমাধ্যমে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়ায় শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠায়, তবে লিখিত জবাব দিয়ে শাস্তি এড়িয়ে যান। ২০২৪ সালে বিধানসভায় বিতর্কিত ভাষা ব্যবহারের জন্য ফের সতর্ক করা হয় তাঁকে। কিন্তু প্রতিবারই সতর্কতার পর হুমায়ুন নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।

আরও পড়ুনঃ Voter card: ভবঘুরের ব্যাগ খুলতেই মূল্য শতাধিক ভোটার কার্ড! নেপথ্যে কি বড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত?

দলের একাংশের মতে, হুমায়ুন এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছেন। তবু বিধানসভা নির্বাচন সামনে থাকায় তৃণমূল এখন কোনও অভ্যন্তরীণ সংঘাতে যেতে চাইছে না। সূত্রের ভাষায়, “কঠোর পদক্ষেপ নিলে তা রাজনৈতিকভাবে প্রতিকূল হতে পারে।” ফলে এখন নজর শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সিদ্ধান্তে— তাঁকে আবার সতর্ক করা হবে, না কি এবার সত্যিই আসবে কড়া শাস্তি? রাজনৈতিক মহল বলছে, এই বৈঠকই নির্ধারণ করবে— ‘বেপরোয়া হুমায়ুন’-এর পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles