ভয়ানক! মাঝরাতে মুখ ঢাকা অবস্থায় দুই অচেনা যুবক ঢুকে এল ঘরে, মহিলাকে খাটে শুইয়ে যা করল…

স্বামীকে না জানিয়ে লুকিয়েই স্মার্টফোন কিনেছিলেন মহিলা। স্বামী বাড়িতে না থাকলে, সেই ফোন ঘেঁটে দেখতেন তিনি। কিন্তু এরইমধ্যে একদিন স্ত্রীর কাছে সেই ফোন দেখে ফেলেন স্বামী। এতেই রাগ চড়ে যায় তাঁর মাথায়। এরপরই স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা করেন তিনি।

অভিযোগ, স্ত্রীকে খুন করার জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দু’জনকে সুপারিও দেন স্বামী। এই ঘটনায় ভাড়াটে এক দুষ্কৃতী ও স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, স্ত্রীয়ের হাতে মোবাইল দেখেই সন্দেহ করেন স্বামী। এরপরই তাঁকে খুন করার পরিকল্পনা করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে নরেন্দ্রপুর এলাকার লস্করপুর পেয়ারাবাগান এলাকায়। শুক্রবার রাতে ঘটে এই ভয়ানক ঘটনা। আক্রান্ত ওই মহিলার অভিযোগ, তাঁর স্বামী রাজেশ ঝাঁ রাতেই বাড়ি ফেরেন। এরপর তাঁর থেকে বাইরের গেটের চাবি চান। স্বামীর গেটে তালা দিয়ে সময় লাগছে বলে তিনি বাইরে বেরোন। ঠিক তখনই একজন তাঁর মুখ চেপে ধরে। আর অন্য একজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর দিকে ছুটে আসে। মহিলাকে ঘরে টেনে নিয়ে গিয়ে খাটের উপর শুইয়ে তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্র চেপে ধরে ওই দুষ্কৃতী, এমনটাই জানান ওই মহিলা।

তবে ততক্ষণে তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। এক দুষ্কৃতীকে হাতেনাতে ধরে ফেললেও, অন্য আরেকজন পালিয়ে যায় বলে জানান তারা। আক্রান্ত মহিলা জানান, দুই দুষ্কৃতীর মুখই ঢাকা ছিল। স্থানীয় লোকজন ওই মহিলাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। মহিলার গলায় সাতটি সেলাই পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এরপরই নরেন্দ্রপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ওই এক দুষ্কৃতী ও মহিলার স্বামীকে গ্রেফতার করে।

গৃহবধূর অভিযোগ জানিয়ে বলেন, “আমার দুই সন্তান। একজন ১১ বছরের, একজনের বয়স পাঁচ বছর। আমার স্বামী চায় না আমার কাছে স্মার্টফোন থাকুক। তবু আমি কিনেছি, আমার দরকার ছিল। বাচ্চাদের অনলাইন ক্লাস চলে। আমারও তো দরকার হয়। তাই কিনি। জানি না ওর মনে কী চলছিল”।

স্বামীর আচরণ, স্বভাব নিয়ে তিনি বলেন, “ওর আচার আচরণ দেখে আমার তো সন্দেহ হয় মাঝেমধ্যে। ওর কোনও সমস্যা রয়েছে কি না। ও পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলে না। মা, ভাই, দিদি কারও সঙ্গে না। ফোন কিনেছি বলেই আমার উপর হামলা। এমনভাবে গলায় আঘাত করেছে সাতটা সেলাই পড়েছে। ছুরি দিয়ে মেরেছে। থানায় গিয়ে এফআইআর করেছি। তিনদিন পর যেতে বলেছে থানায়”

স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “ঘরে গিয়ে দেখি ছুরি পড়ে রয়েছে ঘরে। গলা কেটে গিয়েছে বৌদির। পরে আমাদের পাড়ার দু’জন বৌদিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এর আগে কোনওদিন এরকম ঘটনা ঘটেনি এলাকায়। এই প্রথম এমন হল। আমরা তো ভয় পেয়ে গিয়েছি। আমরা চাই দোষীরা শাস্তি পাক”। এদিকে অভিযুক্ত স্বামীর দাবী, তাঁর স্ত্রী নাকি তাঁর উপর মানসিক অত্যাচার করেন, সেদিকটা কেউ দেখছেন না।

RELATED Articles