সাতসকালে আয়কর হানা, কোটি কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ! ভোটের মুখে তৃণমূল নেতা দেবাশিস কুমারকে ঘিরে তল্লাশি, সামনে কি আসতে চলেছে আরও বড় তথ্য?

ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া গরম হচ্ছে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতা সব মিলিয়ে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঠিক এই সময়েই আবারও শিরোনামে উঠে এল কালীঘাটের প্রভাবশালী নেতা দেবাশিস কুমারের নাম। সকাল সকাল যে ঘটনাটি ঘটল, তা ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।

শুক্রবার ভোরের পর থেকেই মনোহরপুকুর রোডে দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও অফিসে হানা দেয় আয়কর দফতর। অফিসারদের একটি দল সরাসরি বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি শুরু করে বলে জানা গিয়েছে। প্রায় একই সময়ে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়েও পৌঁছে যায় আরেকটি দল। স্থানীয়দের দাবি, আচমকাই এই তল্লাশি শুরু হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকদিন আগেই তাঁকে ডেকেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট(ED) সেই সূত্রেই কি এই নতুন পদক্ষেপ তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

দেবাশিস কুমারের বাড়ির কাছেই তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়। অভিযোগ, আয়কর দফতরের আধিকারিকরা সেখানে ঢুকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ফাইল সংগ্রহ করতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, অফিসে থাকা ল্যাপটপেও হাত দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, কোনও পূর্ব নোটিস ছাড়াই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মীরা রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।

এই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের তরফে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে যে ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। কর্মীদের দাবি, নির্বাচনী কার্যালয়ে থাকা বুথ লেভেল এজেন্টদের নাম, ফোন নম্বর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে, যা রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহার করা হতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, “এই তথ্যগুলি বাইরে গেলে ভোটের উপর প্রভাব পড়তে পারে।” একইসঙ্গে জানা গিয়েছে, দলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ “জামিন পেলেন, তবুও জেলেই!” চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়, একাধিক গুরুতর অভিযোগে মুক্তি আটকে, এর নেপথ্যে কি শুধুই আইনি জটিলতা নাকি আরও বড় কোনও সমীকরণ?

উল্লেখ্য, দেবাশিস কুমারের নাম আগেই উঠেছিল জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগে। কয়েকশো কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তাঁকে তলব করে এবং তাঁর বয়ানও রেকর্ড করা হয়। সেই তদন্ত এখনও চলমান। ঠিক তার মধ্যেই আয়কর দফতরের এই হানা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এটি কি শুধুই নিয়মমাফিক তদন্ত, নাকি ভোটের আগে চাপ বাড়ানোর কৌশল? রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই ঘটনার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে পড়তেই পারে। এখন দেখার, এই তল্লাশি ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles