বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে চিন্ময়কৃষ্ণ দাস। একাধিক মামলায় জড়িয়ে পড়া এই ধর্মীয় মুখপাত্রকে ঘিরে বিতর্ক থামছেই না। কখনও গ্রেফতারি, কখনও আদালতের শুনানি সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়েছে। ঠিক এমন সময়েই তাঁর মামলায় নতুন এক আইনি মোড় সামনে এল, যা আবারও চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে তাঁকে।
চট্টগ্রামের আদালতে একটি মামলায় জামিন পেলেও আপাতত জেলবন্দিই থাকতে হচ্ছে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে। জানা গিয়েছে, হাটহাজারিতে জমি দখল, ভীতিপ্রদর্শন ও মারধরের অভিযোগে ২০২৩ সালে দায়ের হওয়া মামলায় বৃহস্পতিবার তাঁকে জামিন দেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেন। ওই মামলায় মোট ছয়জন অভিযুক্ত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন চিন্ময়কৃষ্ণ। তবে এই জামিন তাঁর মুক্তির পথ খুলে দেয়নি, কারণ আরও একাধিক গুরুতর মামলা এখনও বিচারাধীন।
শুধু একটি মামলা নয়, চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অভিযোগ। রাষ্ট্রদ্রোহ, পুলিশের উপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, এমনকি ককটেল বিস্ফোরণের মতো অভিযোগও রয়েছে তাঁর নামে। বিশেষ করে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। ফলে একটি মামলায় জামিন পেলেও বাকি মামলাগুলির কারণে তাঁর মুক্তি আপাতত অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ, জামিন সংক্রান্ত উত্তেজনার মধ্যেই আদালত চত্বরে সংঘর্ষের সময় তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুন করা হয়। এই ঘটনায় ৩১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয় এবং চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের নামও সেই তালিকায় উঠে আসে। পুলিশের দাবি, তাঁর উস্কানিতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। ইতিমধ্যে চার্জশিট দাখিল হয়েছে এবং আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানের ৩ হাজার বো*মা নিক্ষেপের পরেও, আজও অক্ষত আছে ভারতীয় মন্দির! বর্ডার ছবিতে দেখানো এই মন্দিরকে ঘিরে এমন কিছু তথ্য রয়েছে, যা জানলে আপনিও অবাক হবেন!
চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতের একাংশেও প্রতিবাদের সুর শোনা গিয়েছিল। তাঁর আইনজীবী ভারতের হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছিলেন এবং বিষয়টি কূটনৈতিক স্তরেও আলোচনায় আসে। এমন পরিস্থিতিতে একটি মামলায় জামিন মিললেও তাঁর জেলবন্দি থাকা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে আইনি জটিলতা কি আরও দীর্ঘ হতে চলেছে? নাকি এই মামলা ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেবে?





