সত্য বাক্য বলেই ফেললেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাকিস্তানের থেকে অনেক বেশি উন্নত দেশ ভারত বলে জানালেন তিনি। দুর্নীতিতে ডুবেই শেষ হয়ে গিয়েছে ইসলামাবাদের উন্নয়নের আশা এমনটাই বক্তব্য তাঁর!
হ্যাঁ, এমনতর কথাই বলেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাত আটটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় খোলাখুলি এমনই কথা বলতে শোনা যায় প্রতিবেশী দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে।
আরও পড়ুন–অটুট বন্ধুত্ব! পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়িয়ে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ফের ভারতের পাশে আমেরিকা
এদিন তিনি কার্যত স্বীকার করে নেন, একইসঙ্গে স্বাধীন হয় দুটি দেশ। স্বাধীনতার পর থেকে ভারত যখন একটু একটু করে উন্নয়নের পথে হেঁটেছে পাকিস্তান সেই দিন থেকেই পিছাতে শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ভিডিও বার্তায় রীতিমতো ভারত বন্দনা শোনা যায় পাক-প্রধানমন্ত্রীর গলায়। তিনি বলেন, “আজ থেকে ৫০-৫৫ বছর আগে সারা বিশ্বে উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে পাকিস্তানকে ধরা হত। আমাদের দেশের এমনই একটা ভাবমূর্তি ছিল বিশ্বের কাছে। আমেরিকায় গেলে পাক প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে হাজির থাকতেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।”
আরও পড়ুন–টাকা কামাতে রাজনীতিতে আসিনি! শনিবারের আস্থা ভোটে হেরে গেলে মসনদ ছেড়ে দেবো! গদি বাঁচাতে আবেগী ইমরান
কিন্তু পরবর্তী সময়ে ক্রমেই নীচের দিকে নামতে থাকে পাকিস্তান। এমন দাবি করে ইমরান বলেন, “এর সূচনা হয়ে গিয়েছিল ১৯৫০ সালের পর থেকেই। দুর্নীতি আকাশ ছুঁয়ে ফেলতে শুরু করেছিল। দলীয় প্রতীক ছাড়াই নির্বাচন শুরু হয় দেশে। সেই সময় থেকেই পাকিস্তানের ভাগ্য বদলে যেতে থাকে।”
এর পরই ভারত বন্দনা শোনা যায় তাঁর গলায়। তিনি বলেন, ”ক্রিকেট খেলতে যখন ভারতে যেতাম, তখন মনে হত কোনও গরিব দেশ থেকে এক সম্পদশালী উন্নত দেশে খেলতে এসেছি।”
প্রসঙ্গত, বছর তিনেক আগে মসনদে বসা ইমরান ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। বিশেষত, গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে এগারোটা দলের বিরোধী জোটের প্রতিবাদে ক্রমেই দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে তাঁর পিঠ। অন্যদিকে অস্বস্তি আরও বেড়েছে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স-এর (FATF) ধূসর তালিকা থেকে পাকিস্তান রেহাই না পাওয়ায়। এবার গদি হারানোর মুখে ইমরানের মুখে শোনা গেল উলট পুরাণ।





