সস্তায় ক্ষমতা পেয়ে মস্তি করছে, তারাপীঠের সভা থেকে অভিষেককে তীব্র আক্রমণ নাড্ডার

কয়েকদিন আগেই কাঁথিতে সভা করেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কাঁথি অন্তত রাজনৈতিক মহলে অধিকারীদের গড় নামেই পরিচিত। সেদিন সভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন অভিষেক। হুঁশিয়ারি শানিয়ে বলেন, “তোর বাপকে গিয়ে বল, বাড়ির ৫ কিলোমিটারের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি। যা করার কো, আয়”। এরপরই বাংলার সংস্কৃতিকে তুলে অভিষেকের নাম না করেই তাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় খোঁচা দেন শুভেন্দু।

তবে তাদের মধ্যেকার এই সংঘাত যে সহজে মেটার নয়, তা ভালো ভাবেই জানা ছিল। তা প্রমাণও হল আজকের বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার তারাপীঠের সভায়। এদিন সভায় নাড্ডা বলেন শুভেন্দু অধিকারীর বাবাকে অপমান করা হয়েছে। অভিষেককে দেগে তিনি বলেন, “সস্তায় ক্ষমতা পেয়েছে মস্তি করছ ভাইপো। কাঁথির সভা থেকে ভাইপো যে কথা বলেছে, তা আমি মুখেও আনতে পারছি না। আমার নামের সঙ্গে নানান বিশ্লেষণ জুড়ে খারাপ কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তুই-তোকারি করতেও ছাড়ে না। এটাই কি বাংলার সংস্কৃতি?”

এরপর তৃণমূলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন যে তৃণমূল বাংলার সংস্কৃতি মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছে। তাঁর দাবী, বিজেপি আবার বাংলার সংস্কৃতি ফিরিয়ে দেবে। তিনি বলেন এই বাংলা নেতাজির, রবীন্দ্রনাথের, ঋষি অরবিন্দের। কিন্তু সেই সংস্কৃতি আর নেই। নাড্ডা অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মা, মাটি, মানুষের সরকার বললেও মায়ের সম্মান করেন না।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর সুখ্যাতি করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি বলেন যে, “প্রধানমন্ত্রী বাংলায় কখনও খালি হাতে আসেন না। তাঁর হৃদয়ে বাংলা রয়েছে। ৬৭৫ কিমি হাইওয়ে হবে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত। বাংলার চা বাগানের জন্য এক হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে। চা বাগানের শ্রমিকদেরক্তহা ভেবেছেন প্রধানমন্ত্রী”। এরপর তিনি এও বলেন যে বাংলার ২০ লক্ষ লোকের ঘরে জল পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্পের সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এরপর মমতা সরকারকে দেগে নাড্ডা বলেন যে  মমতা দিদির আমলে বাংলায় কাটমানির রাজনীতি হচ্ছে। এরপর আমফানের কথা তুলে তিনি বলেন, আমফানের জন্য ক্ষতিসাধনে প্রধানমন্ত্রী ২৭০০ কোটি টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই টাকা নিয়ে নিয়েছে। এও অভিযোগ তোলেন তিনি যে রাজ্যবাসীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প থেকে বিরত রেখেছেন। এমনকি, কৃষকদেরও নিজেদের টাকা পেতে দেননি তিনি। তবে নাড্ডা দাবী, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে বাংলার প্রত্যেক কৃষক ১৮ হাজার টাকা করে পাবেন।

RELATED Articles