কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। সেখানেই তিনি দাবী করেন যে উপত্যকার নিরাপত্তা বাংলার থেকে অনেক ভালো। তাঁর এহেন মন্তব্যেই শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক তরজা। এই নিয়ে পাল্টা জবাব দেয় ঘাসফুল শিবির।
জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চে সেনাবাহিনীর উপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী। এই জঙ্গি হামলায় চার জওয়ান নিহত হয়েছেন। এরপরই ফের জম্মু-কাশ্মীরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নানান মহল থেকে। এই বিষয়েই জানতে চাওয়া হয় লেফটেন্যান্ট গভর্নরের কাছে। জম্মু কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বোঝাতেই বাংলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি।
কী বলেন মনোজ সিনহা?
গতকাল, শুক্রবার কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। সেখানেই সাংবাদিকরা তাঁকে জম্মু-কাশ্মীরে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলা নিয়ে প্রশ্ন করে। সেই উত্তরে তিনি বলেন, “কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বাংলার থেকে ভাল। দয়া করে আমাদের রাজ্যে আসুন, নিজের চোখেই পার্থক্য দেখতে পাবেন”।
https://twitter.com/ANI/status/1738189700467404824
এই নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হবে, তা বুঝতে পেড়ে সাফাইও দেন মনোজ সিনহা। বলেন, “আমার মন্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে বিকৃত করবেন না। আমি শুধু বলতে চেয়েছিলাম যে কাশ্মীরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাংলার মতোই ভালো”।
এরপরই পুঞ্চের জঙ্গি হামলা নিয়ে লেফটেন্যান্ট গভর্নর বলেন, “এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এই ধরনের হিংসার নিন্দা করি। আমাদের প্রতিবেশীরাই উপত্যকার শান্তি নষ্ট করতে এইসব করছে। কিন্তু সবই ব্যর্থ হচ্ছে। কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ প্রায় নির্মূল করে দেওয়া হয়েছে”।
লেফটেন্যান্ট গভর্নরের কথায়, জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের পর উপত্যকার নিরাপত্তা ব্য়বস্থা উন্নত হয়েছে। তিনি বলেন, “৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের পর ইতিহাস গড়ার পথে হাঁটছে জম্মু-কাশ্মীর। শিল্পের উন্নতির জন্য মজবুত ভিত স্থাপন করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে বিনিয়োগের অত্যন্ত ভাল সিদ্ধান্ত হবে”।
তবে জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নরের এহেন মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন। তাঁর কথায়, “উনি বিজেপির লোক। ওনার দল যা চায়, তাই বলেন। ওনার উচিত আগের রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলা এবং পুলওয়ামায় কী হয়েছিল, তা জানতে চাওয়া। আর বাংলার নিরাপত্তার কথা বলছেন, কেন্দ্রের রিপোর্টেও বলা হয়েছে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গ দেশের নিরাপদতম স্থান”।






