“এক সময় বাংলার ৮০০টি একক সিনেমা হল ছিল, আমি কোনও রং চাই না…” যিশু সেনগুপ্তের দাবি, বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে কী চাইলেন বিজেপি সরকারের কাছে?

বাংলা চলচ্চিত্রের বড় বড় অভিনেতা-অভিনেত্রী নতুন সরকারের কাছে বারবার আবেদন জানাচ্ছেন, আগামী দিনে সিনেমা জগৎ যেন সম্পূর্ণভাবে রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকে। দেব থেকে প্রসেনজিৎ, প্রথম সারির প্রায় সব তারকা এই বিষয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। এবার এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন যিশু সেনগুপ্ত। সম্প্রতি ‘ব্রাউন’ ছবির প্রচারে ব্যস্ত যিশু সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ভাবনা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, সিনেমা হল শিল্পীদের ক্ষেত্র, সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব থাকা উচিত নয়।

যিশু সেনগুপ্তের মতে, শিল্পীরা যেন নিজের কাজের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চান, লাল, নীল, হলুদ, সবুজ – যেকোনো রাজনৈতিক রঙের মানুষ হোক না কেন, শিল্পীরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারুক। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু তার প্রভাব কাজের উপর পড়া উচিত নয়। অভিনেতা আরও যোগ করেছেন, চলচ্চিত্রের পরিবেশ যেন স্বচ্ছ এবং কাজের জন্য উন্মুক্ত থাকে। এই বার্তায় তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে সুষ্ঠু পরিবেশ ফেরানোর গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তবে শুধুই রাজনীতি মুক্ত ইন্ডাস্ট্রিই নয়, যিশুর আরেকটি বড় দাবি হলো সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমা হল পুনরায় চালু করা। এক সময় বাংলার ৭০০ থেকে ৮০০টি একক সিনেমা হল ছিল, এখন তা মাত্র ১০০টির কাছাকাছি। একাধিক শো আগে ৩ হাজারের মতো হতো, এখন তা ৩০০-এর কাছাকাছি। এই পরিস্থিতি বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্য ক্ষতিকর, এবং এই অবস্থা দ্রুত পরিবর্তনের প্রয়োজন। তাই নতুন সরকারের কাছে তিনি এই বিষয়ে বিশেষ মনোযোগের আবেদন করেছেন।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে যিশু এক পুরনো ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অনেক বছর আগে টেকনিশিয়ান স্টুডিও বন্ধ হওয়ার মুখে ছিল। তখন রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনে তিন দিন ধরে ধর্নায় বসেছিলেন শিল্পীরা। সেই সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব বসুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। যদিও সৌমিত্র ব্যক্তিগতভাবে বামপন্থী, তবু তিনি তখন শুধুই একজন অভিনেতা হিসেবে নিজের দাবি তুলে ধরেছিলেন। এই উদাহরণ দিয়ে যিশু বোঝাতে চেয়েছেন, আগে শিল্পীদের রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও তার প্রভাব কাজের ওপর পড়ে না।

আরও পড়ুনঃ ‘একজন সাপ মানুষের ছদ্মবেশ…’ মমতার দুর্নীতি নিয়ে চাঞ্চল্য মন্তব্য, দলের অবস্থান নয়, ব্যক্তিগত মতামত বলেই খোঁচা তৃণমূলকে! বাবুল সুপ্রিয়ের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে জোর চর্চা!

বর্তমান পরিস্থিতিতে, যিশু সেনগুপ্তের এই বক্তব্য বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, শিল্পীরা যেন স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে পারে এবং দর্শককে মানসম্পন্ন সিনেমা উপহার দিতে পারে। রাজনীতি এবং শিল্প যেন আলাদা থাকে, এই বার্তা নতুন সরকারের কাছে পৌঁছানোর জন্য তিনি সচেষ্ট। পাশাপাশি সিঙ্গল স্ক্রিন পুনরায় চালু করার দাবিও নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। দর্শক, শিল্পী এবং ইন্ডাস্ট্রির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর