রাজনৈতিক মহলে এবার নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। বুধবার গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেন। পোস্টে বাবুল স্পষ্টভাবে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুরুতেই কঠোর ব্যবস্থা নিতেন, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতি হয়তো ভিন্ন হতে পারত। তবে তিনি জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত মতামত এবং দলের কোনও অবস্থানের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।
পোস্টের শুরুতেই বাবুল দলত্যাগী জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য না করে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতীক, নেতৃত্ব বা সংগঠনের মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর যদি কেউ দল ছেড়ে যায়, তাহলে তাকে নির্বাচিত পদ থেকেও ইস্তফা দিতে হবে। তিনি নিজের উদাহরণ তুলে ধরে উল্লেখ করেন, যখন তিনি বিজেপি ছেড়ে বেরিয়েছিলেন, তখন সাংসদ পদও ত্যাগ করেছিলেন। বাবুল মনে করেন, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অধিকার সকলের আছে, কিন্তু তা করলে নির্বাচিত পদকে সম্মান জানানোও জরুরি।
দুর্নীতির প্রসঙ্গে সরাসরি মন্তব্য করে তিনি লিখেছেন, “ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই যারা দুর্নীতি বা জনসাধারণের অর্থ অপব্যবহার বা অন্য অপরাধমূলক কাজে জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। শুরুতে পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।” তিনি আরও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, সেই সময়ের অনেক বিতর্কিত ব্যক্তি এখন তথাকথিত ‘৬০’-এর অংশ। তবে ‘৬০’ বলতে তিনি ঠিক কাদের বোঝাচ্ছেন তা স্পষ্ট করেননি। একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, সেই সময়ের কেউ নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন, আবার কেউ কারাগারেও গিয়েছেন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন বাবুল এক ব্যক্তিকে নিয়ে। তিনি লিখেছেন, “একজন ব্যক্তি আমাকে সবচেয়ে বেশি বিস্মিত করেছেন। আমি কখনও ভাবিনি যে একজন সাপ মানুষের ছদ্মবেশে তাদের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।” তিনি নাম উল্লেখ না করেই এই মন্তব্য করেছেন, যার কারণে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তাঁর এই ইঙ্গিতমূলক মন্তব্য কে বা কারা উদ্দেশ্য করে করেছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুনঃ ADB-দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক সহায়তায় ৫,০০০ কোটি টাকার শিল্প বিপ্লবের পথে বাংলা! শুভেন্দু সরকারের মাস্টারপ্ল্যানে রঘুনাথপুর-ডানকুনি হতে চলেছে নতুন বিনিয়োগের কেন্দ্র, কী এমন পরিকাঠামো গড়ে উঠছে, যা বদলে দিতে পারে রাজ্যের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ?
পোস্টের শেষাংশে বাবুল বিজেপিকেও পরোক্ষভাবে সতর্ক করেছেন। অন্য দল থেকে নেতাদের দলে নেওয়ার সময় অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেছেন। পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন, তাঁর পুরো পোস্ট ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে দেখা উচিত। তৃণমূলের একজন সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনা করায় রাজনৈতিক মহলে এই পোস্ট নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।






