এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় বিজেপি ছাড়তে চলেছেন? আসানসোলের মেয়র তথা পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি এরকমটাই দাবি করে বসেছেন। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে পড়ে গিয়েছে একপ্রস্থ শোরগোল।
বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই যেন শাসক দল এবং বিরোধীদের মধ্যে লড়াই তুঙ্গে উঠেছে। চলছে দলবদল এর খেলা। সবাই নিজের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে মরিয়া। কেউ নিজে থেকেই দল ছাড়ছেন আবার কেউবা বিরোধী পক্ষকে প্রস্তাব দিচ্ছেন নিজের দলে যোগ দেওয়ার জন্য। যেরকমটা এবার জিতেন্দ্র তিওয়ারি করলেন। যদিও বাবুল সুপ্রিয় সপাটে তিওয়ারির করা দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন।
সোমবার পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নিজের এলাকায় একটি জনসভা করেন। সেখানে তিনি দাবি করে বসেন যে, বাবুল সুপ্রিয় নাকি কাছের লোকেদের জানিয়েছেন বিজেপিতে বাঙালি কালচার নেই তাই তিনি সেই দলে আর থাকতে চান না। তাই জিতেন্দ্র তিওয়ারি বাবুল সুপ্রিয়কে তৃণমূলে চলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
আর এই খবর জানতে পেরেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, কয়লা মাফিয়াদের ডেরায় হানা দেওয়া হয়েছে তো তাই ভয় পেয়ে গিয়েছে। ইংরাজিতে এটাকেই ভাইরাল ডায়রিয়া বলে। উনি একজন নির্বোধ রাজনীতিবিদ তাই আমার নাম ব্যবহার করে সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে চাইছেন। আমার গাওয়া একটি গান আছে ‘পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়’ সেটা আমি ওনার উদ্দেশ্যেই ডেডিকেট করলাম।
যত ভোট কাছে আসছে ততই দাঁত নখ বার করে একে অপরের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছে রাজ্যের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল। এমনিতেই তৃণমূল এখন চরম বিপদের কারণ শুভেন্দু অধিকারী, মিহির গোস্বামীর মত দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতারা ইতিমধ্যেই দূরত্ব তৈরি করেছেন দলের সঙ্গে। আর বিজেপি ঠিক এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চাইছে। তাই যারা তৃণমূল ছাড়তে উদ্যোগী তাদেরকে সাদরে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে পদ্ম শিবির। আর বিজেপির এই স্ট্র্যাটেজিই গ্রহণ করতে চাইছে ঘাসফুল শিবির তাই তারাও এবার বিজেপি নেতাদের নিজেদের দলে টেনে আনার মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছেন। ফলে বাংলার রাজনীতি এখন কিন্তু বেশ সরগরম যার আঁচ টের পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।





