“আপনার অফিসে ঢুকে গাল টিপে দেব”- সাংবাদিককে হুমকিতে সব্যসাচী? চাকরি হারানোদের বিক্ষোভের মাঝে সাংবাদিক নিগ্রহ!

বিকাশভবনের সামনে ঘটে গেল এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সব্যসাচী দত্ত নাকি ব্যক্তিগত কাজে গিয়েছিলেন বিকাশভবনে। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পরই তাঁকে ঘিরে ধরেন একদল চাকরিহারা। তাঁরা আগে থেকেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। সব্যসাচীকে দেখেই প্রতিবাদ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ‘চোর’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। কেউ কেউ গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন। এই সময়ই পরিস্থিতি হাতের বাইরে যেতে শুরু করে।

শান্তভাবে কথা বলেও বাঁচলেন না সব্যসাচী, ছবি তুলতে গিয়ে বিপদে সাংবাদিকরা

ঘটনাস্থলে খবর সংগ্রহ করছিলেন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমর সাংবাদিকেরা। তাঁদের মধ্যে অন্যতম সাংবাদিক সুমন মহাপাত্র সব্যসাচীর প্রতিক্রিয়া নিচ্ছিলেন। প্রথমদিকে সব্যসাচী নিজেও যথেষ্ট সংযতভাবে বলেছিলেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সেখানে যাননি, বরং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এসেছেন। বিক্ষোভকারীদের প্রতি সহানুভূতির সুরে বলেন, তাঁরা হয়তো আবেগের বশে কাজ করছেন। কিন্তু ততক্ষণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করেছে।

সব্যসাচীর অনুগামীদের ‘মারমুখী’ রূপ, আক্রান্ত চিত্র সাংবাদিক

ঠিক সেই মুহূর্তেই এক দল যুবক সেখানে এসে হাজির হন। প্রত্যেকেই পরিচিত মুখ, সব্যসাচীর ঘনিষ্ঠ অনুগামী বলেই স্থানীয়রা জানান। তাঁরা ভিড় ঠেলে সব্যসাচীকে সেখান থেকে বার করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। চিত্রগ্রহণ করছিলেন এক চিত্র সাংবাদিক, যিনি ক্যামেরায় এই ঘটনাগুলি ধরতে চাইছিলেন। তখনই আচমকাই ওই যুবকদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকদের দিকে আক্রমণ করেন। টেনে ফেলা হয় ক্যামেরা, এক সাংবাদিকের ঠোঁটে চোট লাগে, আরেকজনকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।

“সংবাদ মাধ্যমের অফিসে ঢুকে গাল টিপে দিই?”—সব্যসাচীর মুখে চরম কটাক্ষ

এই ঘটনার ঠিক পরেই সব্যসাচীর ব্যবহারও পালটে যায়। সাংবাদিকদের উদ্দেশে কটূক্তি করেন তিনি, এমনকি একাধিকবার হুমকির সুরে কথা বলেন। পুলিশ উপস্থিত থাকলেও, জন প্রতিনিধি হিসাবে তাঁর আচরণ ছিল রীতিমতো আগ্রাসী। সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, তাঁদের অফিসে ঢুকে তিনি যদি তাঁদের গাল টিপে দেন, তখন কী প্রতিক্রিয়া হবে? তিনি প্রকাশ্যেই বলেন, “আমার গাড়ি আটকালে কেউ আদর করবে না।” এই ভাষা ও ভঙ্গিমা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজ্যজুড়ে।

আরও পড়ুনঃ India : শত্রু দেশের পতাকা বিক্রি অনলাইনে! আমাজন-ফ্লিপকার্টকে কেন্দ্রের কড়া নোটিস

সাংবাদিকদের প্রতি হুমকি? গণতন্ত্রে এমন ভাষা কতটা গ্রহণযোগ্য?

একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন আক্রমণাত্মক এবং অসম্মানজনক ব্যবহার প্রশ্ন তোলে গণতন্ত্রের বুনিয়াদ নিয়েই। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতায় আঘাত এনে এমন কাণ্ড শাসকের অহংকার ও দায়মুক্তির জ্বলন্ত প্রমাণ বলে মনে করছেন অনেকে। সব্যসাচীর এই রূপ সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এখন দেখার, এর বিচার কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতি এমন বিদ্বেষী মনোভাবের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় কিনা।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles