আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল গোটা রাজ্য। দিকে দিকে আন্দোলন, প্রতিবাদের ঝাঁঝ ছড়িয়ে পড়েছিল। এখনও আন্দোলন জারি থাকলেও প্রতিবাদের আঁচ ধিমে হয়েছে। তবে এবার ফের আন্দোলনের পথে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। আর জি করের আন্দোলনের পরও উপনির্বাচনে শাসক দল বহাল তবিয়তেই থেকেছে। এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন দেবাশিস হালদার-কিঞ্জল নন্দরা।
আর জি কর আন্দোলনের সময় শাসক দলকে বেশ আক্রমণ করা হয়েছিল। বেশ কটাক্ষের মুখে পড়তে হয় রাজ্য সরকারকে। ফলে অনেকেই মনে করেছিলেন, এই আন্দোলনের আঁচ হয়ত ভোটবাক্সে পড়বে। কিন্তু তেমনটা হয়নি। উপনির্বাচন শেষে দেখা গেল ৬টি আসনেই জিতেছে তৃণমূল। যদিও জুনিয়র চিকিৎসকরা প্রথম থেকেই নিজেদের আন্দোলনকে অরাজনৈতিক বলে এসেছেন। তবুও এই উপনির্বাচনের ফল নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হল তাদের।
এই বিষয়ে প্রশ্ন উঠতেই বেশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়েই জুনিয়র চিকিৎসকদের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, “কয়েকদিন আগে পশ্চিমবঙ্গে ছ’টি আসনে উপনির্বাচন হল। এবং সেই আসনগুলিতে শাসকদল জিতেছে বলে এক প্রকার ভাবে আমাদের নাগরিক আন্দোলনকে ব্যঙ্গাত্মক ভাবে আক্রমণ হল। বলা হল, ‘কী হল এত আন্দোলন করে, সেই তো শাসকদল জিতেই গেল!’ বার বার এই ভাবে আন্দোলনকে দলীয় রাজনীতির মাপকাঠিতে ফেলে দেওয়ার কদর্য প্রয়াসকে তীব্র নিন্দা আমরা আগেও জানিয়েছি, এখনও জানাচ্ছি। আমাদের আন্দোলন স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বদল, দুর্নীতি-হুমকি প্রথার বিরুদ্ধে। রাজনীতির সমীকরণকে এর সঙ্গে টেনে এনে আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত করা চেষ্টা হচ্ছে”।
প্রসঙ্গত, আর জি কর কাণ্ডে নাম জড়িয়েছিল অভীক দে, বিরূপাক্ষ বিশ্বাসদের। সেমিনার হল থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের দিন ক্রাইম সিনে দেখা গিয়েছিল তাদের। এছাড়াও, তাদের বিরুদ্ধে থ্রেট কালচার-সহ আরও নানান অভিযোগ ওঠে। সেই সময় মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে সরানো হয় তাদের। স্বাস্থ্য ভবনের তরফে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
আরও পড়ুনঃ হাসপাতালের পর এবার হোটেলও! হিন্দুদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদ, বাংলাদেশিদের ঘর ভাড়া দেওয়া হবে না, ঘোষণা হোটেলের
কিন্তু এর চার মাসের মাথাতেই এবার ফের মেডিক্যাল কাউন্সিলে ফেরানো হয়েছে অভীক দে ও বিরূপাক্ষ বিশ্বাসদের। সেই ঘটনাতেই ক্ষোভ জারি করেছেন চিকিৎসক মহলের একাংশ। সেই ঘটনার প্রতিবাদে এবার ফের আন্দোলনের পথে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। আগামীকাল, শুক্রবার দুপুর ৩টের সময় মেডিক্যাল কাউন্সিলের সামনে জমায়েতের কথা জানিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। সেখান থেকে স্বাস্থ্য ভবন পর্যন্ত মিছিল করবেন তারা। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা থাকবেন এই মিছিলে। নাগরিক সমাজকেও এই মিছিলে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।





