‘আর্জেন্টিনার জার্সি পরে থাকলেই যে নম্বর পেয়ে যাবে, এটা হতে পারে না’, নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে মন্তব্য বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের

টেট দুর্নীতি মামলায় পর্ষদের দুর্নীতি নিয়ে পর্যবেক্ষণ করলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। গতকাল, বৃহস্পতিবার শুনানি চলাকালীন তিনি বলেন, “দুর্নীতি এবং মানিক ভট্টাচার্যের রেশ কাটিয়ে উঠতে পর্ষদের আরও ২-৩ বছর সময় লাগবে”।

বৃহস্পতিবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলার শুনানি চলাকালীন অভিযোগ করা হয়, শুধু হাজিরা দিয়েই কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী নম্বর পেয়েছিলেন। তাদের কোনও পরীক্ষাই নেওয়া হয়নি। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, “কেউ আর্জেন্টিনার জার্সি পরে আছে বলে নম্বর পেয়ে যাবে, ব্রাজিলের জার্সি পরলে নম্বর পাবে না, এটা হতে পারে না”।

গতকালের শুনানিতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “যে ১৮৩ জন নবম ও দশম শ্রেণিতে বেআইনিভবে নিযুক্ত হয়েছে বলে এসএসসি জানিয়েছে, তাদের নাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসএসসি-র ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। সঙ্গে ৩ দিনের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত জেলার ডিআই-দের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে জানাতে হবে এরা কোন স্কুল কর্মরত বা আদৌ কর্মরত কি না। কোনও ডিআই যদি সহযোগিতা না করেন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে”।

বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে গতকাল সন্ধ্যায় ১৮৩ জন অযোগ্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে এসএসসি। এদিনের শুনানিতে কমিশনকে কার্যত হুঁশিয়ারি শানিয়ে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “কমিশনের অফিসে ভূরি ভূরি দুর্নীতি হয়েছে। নির্ভয় হন। ধেড়ে ইঁদুর বেরোবে”

আদালতের নির্দেশ, ৩রা ডিসেম্বর কমিশন, মামলাকারী এবং সিবিআই নিজেদের মধ্যে বৈঠক করবেন। গাজিয়াবাদ এবং কমিশনের দফতর থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া হার্ডডিস্ক থেকে ইতিমধ্যেই উত্তরপত্রের যে নমুনা দেওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দিতে হবে সিবিআইকে। এরপরই কমিশনকে নির্ভয় হওয়ার বার্তা দিলেন বিচারপতি।

এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত সুবীরেশ ভট্টাচার্য মুখ খুলছেন না। তিনি তদন্তে কোনও সহযোগিতা করছেন না বলে জানতে পারেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সিবিআই আমাকে জানিয়েছে যে সুবীরেশ ভট্টাচার্য মুখ খুলছেন না। তাকে দিল্লি নিয়ে জেরা করা হোক। মুখ খুলতেই হবে”।

এরপরই সিবিআইকে তিনি নির্দেশ দেন, “দুপুর তিনটের সময় এসে আমাকে জানান যে সুবীরেশ ভট্টাচার্য মুখ খুলছেন কী না”। এরপরই বিচারপতির হুঁশিয়ারি, “অকল্পনীয় নির্দেশ দেব। এরা সরকারকে সমস্যায় ফেলছে। কমিশনের অফিসে ভূরি ভূরি দুর্নীতি হয়েছে”।

RELATED Articles