আদালতের নির্দেশে ৩৬ হাজার চাকরি বাতিল, নতুন নিয়োগের যাবতীয় খরচ মানিকের থেকে নিতে পারে রাজ্য, জানালেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়

গতকাল, শুক্রবার রাজ্যে এক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে গিয়েছে বলা যেতে পারে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রাথমিকের ৩৬ হাজার প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন যা নজিরবিহীন। একসঙ্গে এত বড় সংখ্যক চাকরি বাতিল হওয়ার ঘটনা রাজ্যে এই প্রথম।

এই ঘটনা যে গোটা রাজ্যে শোরগোল ফেলেছে তা বলাই বাহুল্য। আদালতের তরফে এও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে আগামী তিনমাসের মধ্যে নতুন করে নিয়োগ করতে হবে পর্ষদকে। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ, এই সমস্ত দুর্নীতি হয়েছে প্রাথমিকের প্রাক্তন পর্ষদ সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের আমলে। তাই সরকার যদি মনে করে, তাহলে মানিকের থেকেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার খরচ নিতে পারে।

তবে ৩৬ হাজার চাকরি বাতিল করলেও, ওই শিক্ষকদের এখনই স্কুলে যাওয়া থেকে বঞ্চিত করেন নি বিচারপতি। ওই শিক্ষকরা আগামী চার মাস প্যারা টিচারের বেতন নিয়ে কাজ করতে পারে বলে জানিয়েছে আদালত। আদালতের তরফে এও জানানো হয়েছে যে যাদের চাকরি গিয়েছে, তারা যদি প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন, তাহলে তারাও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াতে অংশ নিতে পারবেন।

এও জানানো হয়েছে যে প্যানেলে যাদের প্রশিক্ষণ নেওয়া ছিল, তাদের কোনও সমস্যা নেই। তারা চাকরি স্বাভাবিকভাবেই করতে পারবেন বলে জানিয়েচে আদালত। তবে ৩৬ হাজার চাকরি বাতিলের শূন্যপদ পূরণ করতে অর্থাৎ নতুন নিয়োগ করতে বেশ খরচ হবে। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রাজ্য চাইলে সেই খরচ মানিক ভট্টাচার্যের থেকে তুলতে পারে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, মানিক ভট্টাচার্যের দুর্নীতির জন্যই আজ এই পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে। প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলা দীর্ঘদিন জেলবন্দি মানিক ভট্টাচার্য। তাঁর স্ত্রী ও পুত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে নেমে দেশে-বিদেশে মানিকের অনেক সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে ইডি। সেই সম্পত্তি থেকেই রাজ্য চাইলে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার খরচ তুলতে পারে বলে জানান বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।

আরও অন্যান্য খবর