গতকাল, শুক্রবার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে এক বড় রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রাথমিকে ৩৬ হাজার প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকদের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল শোরগোল। এবার এই নিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ খোঁচা দিয়ে বলেন, “পশ্চিমবাংলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে মাছের বাজার করে দিয়েছে তৃণমূল”।
আজ, শনিবার খড়গপুরে চা চক্রে যোগ দেন দিলীপ ঘোষ। সেখান থেকেই এই নিয়োগ বাতিল নিয়ে তৃণমূলকে একের পর এক বাক্যবাণে বিঁধলেন তিনি। বলেন, “একটা সময় বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা সকলের গর্বের ছিল। বহু মহাপুরুষ জন্মেছেন এ রাজ্যে। ব্রিটিশ আমলের আগে থেকে বাঙালিরা শিক্ষিত বাঙালি হিসাবে মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে”। বিজেপি নেতার কথায়, “একটা যুগ ইতিহাসের পাতায় কালো অধ্যায় হিসাবে লেখা থাকবে”।
দিলীপের কটাক্ষ, “এ রাজ্যে শিক্ষাকে জলাঞ্জলি দিয়ে মূর্খ করে পরিযায়ী শ্রমিক তৈরি করার ব্যবস্থা চলছে এ রাজ্যে। সবথেকে বেশি লেনদেন হয়েছে, প্রায় ৩৬০০ কোটি টাকা লুঠ হয়েছে। শুধু চাকরি বাতিল করলে হবে না, এই টাকা কাদের কাছে গিয়েছে, তাদেরও নামও সামনে আনতে হবে। তাদেরও শাস্তি প্রাপ্য। না হলে তারা আবারও লোক ঠকাবে”।
আদালতের এই নির্দেশ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল গতকালই জানিয়েছেন যে চাকরিহারাদের দায় অস্বীকার করবে না পর্ষদ। তাঁর কথায়, কোনও বেআইনি নিয়োগ হয়নি। তিনি এও জানান যে আদালতের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। এক সংবাদমাধ্যমে তিনি জানান, “আপিল করারই তো কথা। তবে আমি যে রায়টা দিয়েছি সেটা ভাল করে পড়লেই সবটা পরিষ্কার হয়ে যাবে”।
অন্যদিকে, এক চাকরি বাতিল প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “গোটা রাজ্যজুড়ে প্রায় ৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়ে গিয়েছে। স্কুলে স্কুলে শিক্ষক থাকবে না এবার। তাঁরা চার মাস পার্শ্বশিক্ষকের মতো মাইনে পাবেন। একটা অরাজকতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরপর যা সময় আসছে তাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩৫৬ বলবৎ করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না”।
এর পাল্টা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “আদালতের কোনও কোনও রায় সামনে চলে এলে যাঁরা শকুনের রাজনীতি করেন, তাঁদের কেমন একটা পুলক জাগে। এই যেমন সুকান্ত মজুমদার। কোনও সংগঠন তো নেই। তাই ভাবে এলোমেলো করে দে মা লুটেপুটে খাই। কোথাও কিছু জটিলতা, একটু অনিশ্চয়তা দেখলেই ওদের পুলক জাগে। এই তো ৩৫৬। আসলে ওরা তো ভোটে জিতে আসতে পারবে না। প্রথমেই একটা ৩৫৬”।





