আর জি কর কাণ্ডে দীর্ঘ ৪৬ দিন ধরে কর্মবিরতি করেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদে সামিল তারা। তবে অবশেষে উঠেছে তাদের আংশিক কর্মবিরতি। জরুরি পরিষেবায় যোগ দিচ্ছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা আজ, শনিবার থেকে। উঠেছে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে থাকা তাদের অবস্থান বিক্ষোভও। আর ধর্না উঠতেই রাতারাতি বদলে গেল স্বাস্থ্য ভবন চত্বরের ছবি।
১১ দিন ধরে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাদের নানান দাবী নিয়ে তারা আন্দোলন করেন। সেই সময় এই জায়গার একপাশে ছিল বায়ো টয়লেট। ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে মোতায়েন ছিল পুলিশ। নানান স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষের তরফে পাঠানো হয়েছিল খাবার, পানীয় জল, ফ্যান। বাঁশ দিয়ে বাঁধা হয়েছিল প্যান্ডেল।
স্বাস্থ্য ভবন চত্বরের দেওয়ালে, স্বাস্থ্য ভবন বাসস্ট্যান্ডের দেওয়ালে লেখা ছিল বিচার চাইয়ের স্লোগান। রাস্তায় আঁকা হয়েছিল গ্রাফিতি, বিচার চেয়ে স্লোগান। কিন্তু সেসব এখন অতীত। গতকাল, শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবন থেকে সিজিও কমপ্লেক্স পর্যন্ত মিছিল করে ধর্না তুলেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। আর তাদের ধর্না উঠতেই এক রাতের মধ্যেই বদলে গেল স্বাস্থ্য ভবন চত্বরের চেহারা।
শনিবার সকালেই দেখা গেল, সমস্ত স্লোগান মুছে ফেলা হয়েছে। বাস স্ট্যান্ড বা নানান দেওয়ালে যে সমস্ত স্লোগান লেখা ছিল তার উপর রঙের প্রলেপ পড়েছে। আশেপাশের দেওয়ালে যেখানে স্লোগান লেখা ছিল সেই সময় কিছু আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। রাস্তার উপর যে বিচারের দাবীতে স্লোগান বা ছবি আঁকা হয়েছিল, তার উপর আলকাতরা ঢেলে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের সমস্ত চিহ্ন যে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে, তা বেশ স্পষ্ট।
আরও পড়ুনঃ
প্রশাসনের তরফে জুনিয়র চিকিৎসকদের কিছু দাবী মেনে নেওয়ায় তারা ধর্না তুলেছেন তবে তারা এও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যদি সিবিআইয়ের তদন্তের গতি না সেভাবে চোখে পড়ে আর প্রশাসন যদি তাদের বাকি দাবিদাওয়া না মেনে নেয়, তাহলে ফের তাদের কর্মবিরতি চলবে। স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে স্লোগানের চিহ্ন মুছে ফেলার প্রসঙ্গে জুনিয়র চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, রঙ দিয়ে ঢেকে দিলেও আন্দোলনের আগুনকে কোনওভাবেই চাপা দেওয়া যাবে না। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদ জারি থাকবে।





