একদিকে কোভিড যন্ত্রণা অন্যদিকে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। এই দুইয়ের মধ্যে পড়ে রীতিমতো সাঁড়াশি চাপে পশ্চিমবঙ্গ। ইতিমধ্যেই করোনার প্রকোপে একের পর এক প্রাণ হারাচ্ছেন প্রার্থীরা।
তবে হিংসা, প্রশ্নবাণ, অভিযোগ বন্ধ নেই কোনও কিছুই। এবার বিজেপির নিশানায় তৃণমূলের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। গত ৫ বছরে রাজ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার রেশন দুর্নীতির অভিযোগ করল বিজেপি। বিদায়ী খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে চাল সংগ্রহ ও বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগ করলেন বাংলায় বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়।
আরও পড়ুন- নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ মমতার বিরুদ্ধে, নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা আগেও প্রচার, বিজেপির চিঠি কমিশনে
অভিযোগ করে তিনি জানিয়েছেন, ‘কৃষকরা ধানের উৎপাদনমূল্য পাননি। গরিবরা চাল পাননি। এই দুর্নীতিতে জড়িত মমতার ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী।’ এদিন বাইপাসের ধারে একটি হোটেলে সাংবাদিক বৈঠকে বিজয়বর্গীয় বলেন,”ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে বিভিন্ন সোসাইটি ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি। কত জন কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হয়েছে, তার কোনও তালিকা নেই রাজ্যের কাছে। তার পর আমরা জানতে চাই, কত টাকা চেকে দেওয়া হয়েছে? ধান কেনা হয়েছে নগদে। প্রধানমন্ত্রী কৃষান সম্মান নিধি যোজনায় এই জন্য তালিকা দিতে পারেনি রাজ্য। এই শস্য গরিবদের কাছে পৌঁছয়নি।”
এরপরই রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ করে বিজয়বর্গীয় বলেন, ”ত্রিপলের পয়সা এলেও গরিবদের কাছে পৌঁছয়নি। মোদীজি চাল পাঠালেও আসেনি। প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে প্রতিবছর। এটা খালি ৫ বছরের তথ্য। মন্ত্রী নিজেও জড়িত। তাঁর সম্পত্তির হিসাব রয়েছে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায়। ২০০৬ সালে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সম্পত্তি ছিল ৫ লক্ষ টাকা। ২০১১ সালে তা বেড়ে হয় ৮৫ লক্ষ। ২০১৬ সালে ১ কোটি ৫২ লক্ষ ও ২০২১ সালে ৬ কোটি ২৯ লক্ষ সম্পত্তির কথা উল্লেখে রয়েছে হলফনামায়। তার কয়েকগুণ বেশি সম্পত্তি রয়েছে ওঁর। বাংলাদেশেও সম্পত্তি রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। ৫ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এটা গরিব ও কৃষকদের পয়সা। এই দুর্নীতিতে মহেন্দ্র আগরওয়াল, কালীদাস সাহা ও মতিবুর রহমানদের নাম পেয়েছি। গো-পাচারের সঙ্গেও যুক্ত।”






