রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় গোটা রাজ্য। সরকারি স্কুলে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, যেখানে বিপুল অর্থের বিনিময়ে যোগ্য প্রার্থীদের সরিয়ে অযোগ্যদের চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। আদালতের হস্তক্ষেপে তদন্ত শুরু হলে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। তদন্তে উঠে আসে রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব, প্রশাসনের কিছু আধিকারিকের জড়িত থাকার অভিযোগ এবং কয়েকশো কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ।
ইডি (ED) ও সিবিআই (CBI)-এর যৌথ তদন্তে এই দুর্নীতির জাল আরও বিস্তৃত হতে থাকে। একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, শিক্ষাক্ষেত্রের কিছু কর্তা ও রাজনীতিবিদদের নামও উঠে আসে। এই কেলেঙ্কারির মূল হোতাদের চিহ্নিত করে তদন্তকারী সংস্থাগুলি একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। আদালতে মামলা চলাকালীন, একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং নগদ টাকা উদ্ধার হয়। ধীরে ধীরে এই দুর্নীতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এবং এর ফলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমতে শুরু করে।
আরও পড়ুনঃ শীত বিদায়, কিন্তু বৃষ্টি আসছে! রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বর্ষণের পূর্বাভাস!
এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র দীর্ঘদিন ধরে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন। একাধিকবার জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিয়োগ দুর্নীতিতে তিনি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনে যুক্ত ছিলেন।তবে শেষ পর্যন্ত শারীরিক অসুস্থতার ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্ট ৩১ মার্চ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছে। সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদযন্ত্রের সমস্যা এবং অন্যান্য অসুস্থতায় ভুগছেন। চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে জামিনের আবেদন জানানো হলে, আদালত তা গ্রহণ করে। তবে শর্তসাপেক্ষে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, এবং মামলার তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি ৩১ মার্চ হবে, যেখানে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের জামিনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি চাইছে, তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক এবং দুর্নীতির মূল চক্র পুরোপুরি উন্মোচিত হোক। তবে আপাতত জামিন পেলেও, মামলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে পরবর্তী তদন্ত ও প্রমাণের ওপর।





