মহা কুম্ভে স্নান, গঙ্গার জল বিপজ্জনক—গ্রীন ট্রাইব্যুনালের ভয়াবহ সতর্কতা!

প্রয়াগরাজে অনুষ্ঠিত হওয়া মহা কুম্ভ মেলা ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। প্রতি ১৪৪ বছর পর, যখন ত্রিবেণী সঙ্গমের পবিত্র জলধারা মানুষের পাপ মোচনে অবগাহনের সুযোগ দেয়, তখন লাখ লাখ পুণ্যার্থী এখানে আসেন। এই বিশেষ সময়টিতে, দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসে হাজার হাজার মানুষ, এবং এমনকি বিদেশি পর্যটকরাও এই ঐতিহ্যবাহী মেলায় অংশগ্রহণ করতে ছুটে আসেন। সন্ন্যাসী, তীর্থযাত্রী, ভক্ত ও সাধারণ মানুষ মিলিত হয়ে একদিকে যেমন ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ পান, তেমনি মানবজাতির মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠে। তবে, এমন বিশাল পরিসরে মানুষের সমাগম, যেখানে কয়েক লক্ষ মানুষ একত্রিত হন, সেখানকার সামাজিক, পরিবেশগত এবং স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জও কম নয়।

কোনও বড় ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান যখন ঘটে, তখন সেটা কেবল মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতি কিংবা সমাধানের জন্য নয়, বরং এর প্রভাব সমাজের উপরও পড়তে থাকে। একদিকে যেমন ধর্মীয় সমাগমে পুণ্যলাভের আশায় হাজার হাজার লোক উপস্থিত হন, তেমনি অনেক সময় এমন অনুষ্ঠানের পরিবেশগত প্রভাব অল্পে বা অধিক পরিমাণে সমাজে বিরূপ প্রভাব ফেলে। মানুষের ভিড়, অপচয়, পরিসরের অতিরিক্ত চাপ এমন কিছু বিষয় যা কখনও কখনও এমন অনুষ্ঠানের শেষে পরিবেশ দূষণের কারণ হতে পারে। যেহেতু ধর্মীয় অনুষ্ঠান গুলি হয় বিপুল মানুষের সমাগমে, তাই এর ফলে সামাজিক পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যে ক্ষতি হওয়া একেবারেই অস্বাভাবিক কিছু নয়।

এবারের মহা কুম্ভ মেলায় গঙ্গায় বেড়ে গেছে ফেকাল কোলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ। ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (NGT)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়াগরাজের গঙ্গা নদীর জলে মলমূত্রের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জীবাণুর জন্য বিপদজনক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গঙ্গার জলে বায়োকেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (BOD) মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না এবং পানির গুণমান অত্যন্ত খারাপ হয়ে গেছে। ১২-১৩ জানুয়ারি যখন স্নানপরীক্ষা করা হয়েছিল, তখন নদীতে এই গুণমানের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

আরও পড়ুনঃ অসুস্থতা নাকি দুর্নীতির সঙ্গী? জামিন পেলেন কালীঘাটের কাকু!

বিশাল সংখ্যক মানুষ যখন গঙ্গায় স্নান করেন, তখন জলদূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গঙ্গার পানিতে ফেকাল কোলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার ঘনত্ব অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পানির স্বাস্থ্যবিধির জন্য মারাত্মক বিপদজনক। যদিও সেখানকার পয়ঃনিষ্কাশন কেন্দ্রগুলি সচল ছিল, তবে কুম্ভের সময়, বিশেষত শুভ দিনগুলোতে, মানুষের ভিড়ের কারণে জলদূষণের মাত্রা বাড়ে। এই সময়ে শাহী স্নান ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষভাবে দূষণ বৃদ্ধি পায়, যা পরবর্তী সময়ে পুণ্যার্থীদের জন্য বিপদজনক হতে পারে।

এদিকে, দূষণের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে এনটিজি (NGT) আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। বুধবার উত্তরপ্রদেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের কর্মকর্তাদের ভার্চুয়ালি হাজির থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবং তাদের কাছ থেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাগুলির ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এনটিজি পূর্বে নির্দেশ দিয়েছিল, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময়ে পানি দূষণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু এবার এই দূষণের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এর ফলে গঙ্গার জল ব্যবহারে পুণ্যার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles