‘তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল করবেন না’, আইপ্যাকের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ উগড়ে কড়া হুমকি কল্যাণের

একুশের নির্বাচনে তৃণমূলকে ভোটে জেতাতে আইপ্যাকের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। ২০২৪-এর লোকসভায় দিল্লির মসনদকে লক্ষ্য করে যখন তৃণমূল এগোচ্ছে, সেক্ষেত্রেও পাশে রয়েছে আইপ্যাক। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরাতে গিয়ে সমীক্ষাও চালিয়েছে প্রশান্ত কিশোরের এই সংস্থা। তবে এবার এই আইপ্যাকের কাজকর্ম নিয়েই একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঠিক কী বললেন শ্রীরামপুরের সাংসদ?‌

গতকাল, সোমবার ধনেখালির বেলমুড়ি কমিউনিটি হলে একটি সাংগঠনিক বৈঠক হয় । এই বৈঠকেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এতদিন যেভাবে দল চলত, এখন আর তা হবে না। কেউ কোনও সমস্যায় পড়লে দুঃখিত। কারণ আমি আর কিছু করতে পারব না। আইপ্যাক সংস্থা দলের কেন্দ্রীয় স্তরকে রিপোর্ট পাঠাচ্ছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই সব স্থির হবে। কাকে সৎ আর কাকে ওরা অসৎ বলবে আমার তা জানা নেই”। এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে সাংসদ যে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন, তা বুঝতে অবশ্য কাউকে তেমন দেগ পেতে হয়নি।

আরও পড়ুন- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী না হলে নুসরত কী এত সুবিধা পেতেন? বিস্ফোরক ভরত কল

রাজনীতির ময়দানে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই ঠোঁট–কাটা বলেই পরিচিত। আইনজীবী হিসাবেও বারবার দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। সিবিআইয়ের দুঁদে আইনজীবীদের সঙ্গেও মোকাবিলা করেছেন। এবার ‘আইপ্যাক’–এর রিপোর্ট নিয়ে এদিন কথা বলেন তিনি।

কল্যাণবাবুর কথায়, “আমার একটাই অনুরোধ, রিপোর্ট আপনারা দিন। কিন্তু আমরা যাঁরা ৩৮-৪০ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে দল করেছি, সিপিআইএমের গুলির সামনে লড়াই করেছি, সেই সব যোদ্ধাদের অতীত ইতিহাসকে একটা কলমের খোঁচায় আপনারা মুছে দেবেন না। তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল করবেন না। দয়া করে সত্যি রিপোর্টটা দিন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভালবেসে আমরা দল করেছি। যোগ্য কর্মীকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে”।

সাংসদের এমন মন্তব্যের কারণে নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেউ কেউ মনে করছেন কল্যাণবাবু হত ইদানিং দলে তেমন গুরুত্ব পাচ্ছেন না। আবার অন্য কোনও কারণও থাকলে থাকতে পারে। আবার কারোর মতে, ২০২৪ সালে তিনি ভোটের টিকিট পাবেন না, এমন কিছু আঁচ করতে পেরেছেন কী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, এই কারণেই কী এমন মন্তব্য?

আরও পড়ুন- কোনও আফগানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অনুমতি ছাড়া বিতাড়িত করা যাবে না ভারত থেকে, নির্দেশ কেন্দ্রের

তবে এই নিয়ে ওই হুগলী জেলার এই নেতা বলেন, “শ্রীরামপুরের সাংসদ বর্ষীয়ান নেতা। উনি নিজের দুঃখের কথা বলেছেন। আমি কোনও মন্তব্য করব না”। তবে আইপ্যাক নিয়ে সাংসদের এমন ধরণের মন্তব্য যে নেহাতই অমূলক নয়, এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

RELATED Articles