ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের প্রশাসনিক অন্দরে বাড়ছে চাপা অস্বস্তি। কখনও ভোরবেলা, কখনও আবার গভীর রাতে আসা বদলির নোটিস—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের চোখে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক রদবদল হলেও, এর পিছনে যে বড় কোনও প্রশ্ন লুকিয়ে রয়েছে, তা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতেই একের পর এক আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের বদলি নিয়ে সরব হয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এভাবে হঠাৎ করে এত সংখ্যক আধিকারিককে বদলি করলে প্রশাসনিক কাজকর্মে বড় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ভোটের আগে এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
শুধু অভিযোগেই থেমে থাকেনি বিষয়টি। এবার তা পৌঁছে গেল আদালতের দ্বারেও। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাজ নির্বাচন পরিচালনা করা, কিন্তু প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিকদের অন্য রাজ্যে পাঠানোর অধিকার কমিশনের নেই। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাঠামো ব্যাহত হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এরই প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে মামলা দায়েরের অনুমতি চাওয়া হয় এবং দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সেই অনুমতি দিয়েছে বলেই জানা গেছে। ফলে আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। স্বাভাবিকভাবেই এখন নজর সেদিকেই—আদালত কী অবস্থান নেয়, সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ বাড়ছে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা! আজ বিকেলেই হতে চলেছে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়, জোর বৃষ্টিপাত! সতর্কতা জারি আবহাওয়া দফতরের!
তবে এখানেই তৈরি হয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন। নির্বাচন কমিশন ও হাইকোর্ট—দুটিই সংবিধান স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান। সে ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্তে হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করতে পারে কি না, তা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। একদিকে প্রশাসনিক স্বাভাবিকতা বজায় রাখার দাবি, অন্যদিকে সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমারেখা—এই টানাপোড়েনের মধ্যেই এখন রাজ্য রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।






