TMC: “রমেশ বিধুরী বাজে বাজে কথা বলল, মহুয়া চুপ, শতাব্দীও কিছু বলল না”— তৃণমূলের মহিলা মহলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়!

রাজনীতির মঞ্চে দলীয় ঐক্য রক্ষা সব সময় সহজ হয় না। প্রকাশ্যে না আসলেও, ভেতরে ভেতরে জমে ওঠা ক্ষোভ কোনও এক সময় ফেটে পড়ে সামনে আসে। তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক সময়ে তেমনই এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দলের ভেতরকার দ্বন্দ্ব যে আবারও প্রকাশ্যে চলে এসেছে, তার প্রমাণ মিলল শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে। তাঁর কথায় উঠে এসেছে শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, দলের মহিলা সাংসদদের ভূমিকা নিয়েও তীব্র আক্রমণ।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে যখন বিজেপি সাংসদদের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়, তখন তৃণমূলের মহিলা সাংসদরা কেউই প্রতিবাদে সরব হননি। বরং নীরবতাই বেছে নিয়েছিলেন তাঁরা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রমেশ বিধুরী মহুয়া সম্পর্কে যে বাজে বাজে কথা বলেছে সেগুলো গ্রহণযোগ্য না। মহুয়ার ন্যায় বা অন্যায় নিয়েও আমি কোনও কথা বলব না। কিন্তু আমাকে যখন থ্রেট করা হচ্ছে, তখন আমার পাশে দলের মহিলা মহল চুপ করে বসে থাকে।”

প্রসঙ্গত, কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বন্দ্ব নতুন নয়। গত কয়েক মাসে একাধিকবার সেই মতভেদ প্রকাশ্যে এসেছে। এমনকি দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। চাপ বাড়তেই কল্যাণ চিফ হুইপ পদ থেকে ইস্তফা দেন। তাঁর জায়গায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শতাব্দী রায়কে দেওয়া হয় ডেপুটি লিডারের পদ। তবে তাতেও কল্যাণের ক্ষোভ যে প্রশমিত হয়নি, তা তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে ফের স্পষ্ট হল।

শ্রীরামপুরের সাংসদ এদিন আরও দাবি করেন, সংসদে দাঁড়িয়ে বিজেপি সাংসদ রাজীব প্রতাপ রুডি যখন মহুয়াকে সমর্থন করতে গিয়ে তাঁকে হুমকি দেন, তখনও কেউ এগিয়ে আসেননি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সেদিন ডেপুটি লিডার শতাব্দী রায় উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তিনি কোনও প্রতিবাদ করেননি। মহুয়া তো স্বাভাবিকভাবেই বলবে ‘ছেড়ে দিন’। কিন্তু দলের অন্য মহিলা সাংসদরা কেন চুপ করে রইলেন, সেটাই আমার প্রশ্ন।” তাঁর অভিযোগ, বিজেপি আক্রমণ করলেও দলের মহিলা সাংসদরা নীরব থাকেন, অথচ সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা সেই সময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ Astrology: সেপ্টেম্বরের আর্থিক রাশিফল: কোন রাশির ভাগ্যে আসছে আয় ও সাফল্য

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তুলেছে। বিরোধীরা তৃণমূলের ভেতরের এই ফাটলকে সামনে এনে দলকে অস্বস্তিতে ফেলতে চাইছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের অন্দরে অনেকেই মনে করছেন, প্রকাশ্যে এভাবে মন্তব্য করলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। এখন দেখার বিষয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন। কারণ, মহুয়া-কল্যাণ দ্বন্দ্ব যে আর শুধু ব্যক্তিগত সীমায় আটকে নেই, তা স্পষ্ট—এবার সেই রেশ গিয়ে পৌঁছেছে দলের মহিলা সাংসদদের ভূমিকাতেও।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles