কালীঘাটে বিশেষ প্রার্থনায় কঙ্গনা রানাওয়াত! নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার মেয়েদের জন্য কী বার্তা দিলেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ?

বঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের তুমুল উত্তাপের মধ্যেই হঠাৎ কালীঘাট মন্দিরে হাজির হন হিমাচল প্রদেশের মান্ডির বিজেপি সাংসদ ও বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। মঙ্গলবার সকালে তিনি সরাসরি মন্দিরে গিয়ে মা কালীর পুজো দেন। তার উপস্থিতি কেবল ভক্তির জন্য কি, নাকি রাজনৈতিক ইঙ্গিত আছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। দর্শকদের চোখে পড়ার মতো ভক্তিমূলক সাজে মন্দিরে প্রবেশ করেন তিনি, হালকা গোলাপি শাড়ি এবং কমলা রঙের চওড়া পাড়ে সজ্জিত।

কঙ্গনা শুধুমাত্র কালীঘাটেই নয়, নকুলেশ্বর ভৈরব মন্দিরেও পুজো দেন। তিনি সবসময় নিজেকে ‘শক্তির ভক্ত’ হিসেবে পরিচয় করান এবং এদিনও সেই বিশ্বাসে উজ্জীবিত দেখা যায়। মায়ের কাছে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থনা করেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, আজ তিনি মা কালীর ডাক পেয়ে মন্দিরে এসেছেন এবং বিশেষভাবে বাংলার মেয়েদের জন্য আশীর্বাদ কামনা করেছেন। তিনি বলেন, মেয়েরা যাতে ন্যায়বিচার পায় এবং মা কালী তাদের রক্ষা করেন, সেই জন্যই তার প্রার্থনা।

রাজনীতির দিক থেকে বিষয়টি নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। কঙ্গনার মন্দির সফর নির্বাচনের আগে আসন্ন প্রচারের সময়কালে এসেছে। তিনি স্পষ্টভাবে ভোট বা কোনো প্রার্থীর সমর্থন সম্পর্কে মন্তব্য না করলেও, রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি বিশেষভাবে কোনো প্রার্থীর জন্য প্রচারে নামবেন কি না। তবে কঙ্গনা শুধুমাত্র বাংলার মানুষের মঙ্গল কামনা করেছেন বলে জানান এবং নির্বাচনী বার্তায় সরাসরি কিছু বলেননি।

মন্দিরে তার উপস্থিতি এবং বিশেষ প্রার্থনার ছবিগুলি ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই এটি কেবল একটি ভক্তির প্রকাশ মনে করছেন, আবার অনেকে মনে করছেন এর রাজনৈতিক প্রভাবও থাকতে পারে। বাংলা রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে যে কোনও চমক ঘটতে পারে, তাই কঙ্গনার এই সফরকে শুধুই ধর্মীয় ভক্তি হিসেবে দেখার দৃষ্টিকোণ নিয়েও নানা মত রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ এসআইআর তালিকায় বড়সড় ছাঁটাই! ৯০ লক্ষের বেশি নাম বাদ! ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের নিরিখে শীর্ষে মুর্শিদাবাদ, কোন জেলায় কত নাম বাতিল?

রাজ্যের নির্বাচনী উত্তাপ বাড়তে থাকায়, এমন হঠাৎ প্রবেশের ঘটনাগুলি আরও বেশি নজর কাড়ছে। কঙ্গনার মন্দির সফর কতটা নির্বাচনী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে একথা নিশ্চিত যে, মা কালীর কাছে বাংলার মেয়েদের জন্য তার প্রার্থনা এবং শুভকামনা অনেকে মনে রাখবেন। এই সফর তাকে কেবল একজন ভক্ত হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক পরিসরে একটি প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবেও তুলে ধরেছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles