কংগ্রেস ছাড়লেন কৌস্তভ বাগচি, লোকসভা ভোটের আগে অস্বস্তিতে হাত শিবিরে, বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন নাকি কংগ্রেসের প্রাক্তন মুখপাত্র?

সামনেই লোকসভা নির্বাচন। এমনিতেই বাংলায় কংগ্রেসের জমি খুব একটা শক্ত নয়। আর এরই মধ্যে ঘটে গেল বড় ভাঙন। হাত শিবিরের হাত ছেড়ে দিলেন কৌস্তভ বাগচি। এই বিষয়ে জানিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে তিন পাতার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি, এমনটাই খবর। লোকসভা নির্বাচনের মুখে এমন ঘটনা যে কংগ্রেসকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

২০০৪ সাল থেকে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত কৌস্তভ বাগচি। কংগ্রেস সভাপতিকে দেওয়া চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “যখন আমার ১৪ বছর বয়স সেই হাফ প্যান্ট পরার বয়স থেকে আমি ব্যারাকপুরের কংগ্রেসের পার্টি অফিসে যেতাম। আমাকে সবাই ‘বাচ্চা কংগ্রেস’ বলে ডাকত। সেই সময় থেকে আমি অনেকটা পথ চলেছি”।

কংগ্রেসের সঙ্গে নিজের স্মৃতি আওড়ে তিনি লেখেন, “এক সময় আমি কংগ্রেস সেবাদল, ছাত্র পরিষদ, কংগ্রেস যুব করেছি। অনেকটা পথ অতিক্রম করার পর আমি পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সদস্য হয়েছিলাম। কংগ্রেসের মুখপাত্র হয়েছিলাম। সব সময় দলের হয়ে কাজ করেছি। কোনও দিন এর বদলে দলের থেকে কিছু ফেরতের আশা করিনি”।

গত বছর গ্রেফতার হয়েছিলেন কৌস্তভ বাগচি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য করায় একাধিক ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছিল রাজ্য পুলিশ। পরে অবশ্য জামিন পেয়েছিলেন তিনি। সেই সময় নিজের মাথা মুণ্ডন করেন তিনি। প্রতিজ্ঞা করেন, যতদিন না পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে উৎখাত করতে পারবেন, ততদিন মাথায় চুল রাখবেন না তিনি।  

ইদানিংকালে নিজের দলের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছিল তাঁর। জাতীয় স্তরে বিজেপিকে হারাতে কংগ্রেস জোট বেঁধেছে তৃণমূল ও অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে। তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের এই জোট বাঁধা ভালো চোখে নেন নি কৌস্তভ। এর বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। তাঁর বার্তা ছিল, “তৃণমূল আমাদের চোখে চোর ছিল, চোর থাকবে”।

এরপর কংগ্রেসের মুখপাত্রদের তালিকা থেকেও বাদ পড়ে কৌস্তভের নাম। সাম্প্রতিককালে কৌস্তভকে নানান বিজেপি নেতাদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে। কখনও সজল ঘোষের সঙ্গে একই পুজো মণ্ডপে দেখা গিয়েছে তাঁকে আবার কখনও বা শুভেন্দু অধিকারীর মিছিলে পা মেলাতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এবার তিনি কংগ্রেস ছাড়লেন। এরপরই গুঞ্জন উঠতে শুরু করেছে কৌস্তভ হয়ত এবার বিজেপিতেই যোগ দেবেন। সত্যিই তেমন কিছু ঘটে কী না, তা তো সময়ই বলবে।  

RELATED Articles