বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা আইনজীবী মনু সিংভির বিরুদ্ধে এবার ক্ষোভ উগড়ে দিলেন কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচি। ‘আপনার জন্য আমাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে’, এমনটাই জানালেন তিনি। কৌস্তভের কথায়, মনু সিংভিকে নিজেদের নেতা বলে মেনে নেওয়াটা লজ্জাজনক।
বাংলায় রাজ্য সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ছে কংগ্রেস-সহ সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দল। কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিষয়ে মন্তব্য করার কারণে গ্রেফতার হতে হয়েছে কৌস্তভ বাগচিকে। আর দিল্লিতে কংগ্রেস নেতারাই লড়ছেন বাংলার তৃণমূল নেতাদের হয়ে।
আর এই ঘটনার সাম্প্রতিক উদাহরণ হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে কংগ্রেস নেতা তথা আইনজীবী মনু সিংভির লড়াই। তাঁর কারণেই স্বস্তি পেয়েছেন অভিষেক। আর এই ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না কৌস্তভ-সহ অন্যান্য কংগ্রেস নেতারা। দিল্লির কংগ্রেস নেতাদের এমন কাণ্ড রাজ্যের কংগ্রেস নেতাদের বিড়ম্বনায় ফেলছে। এবার সেই কারণে মনু সিংভিকে কড়া চিঠি দিলেন কৌস্তভ বাগচি।
চিঠিতে কৌস্তভ লেখেন, “আপনার জন্য বাংলার কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। পেশাদার আইনজীবী হিসেবে কার হয়ে লড়বেন, সেটা ঠিক করার অধিকার আপনারই। কিন্তু কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা হিসেবে দল ও কর্মীদের বাধ্যবাধকতা অস্বীকার করতে পারেন না আপনি। পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস তৃণমূলের দুর্নীতি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। কিন্তু আপনি যখন সেই দলের নেতার হয়েই আদালতে লড়াই করছেন, তখন আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাংলায় কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা আজ সমস্বরে বলছেন, ‘আমরা আপনার জন্য লজ্জিত’।”
এই বিষয়ে এক সংবাদমাধ্যমে কৌস্তভ বাগচি বলেন, “অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি এই মুহূর্তে ভারতের অন্যতম সেরা আইনজীবী তা নিয়ে সন্দেহ নেই। উনি কার হয়ে মামলা লড়বেন সম্পূর্ণ ওনার সিদ্ধান্ত। কিন্তু ওনার ভুলে গেলে চলবে না যে দলের উনি বর্ষীয়ান নেতা। দলের কর্মীদের প্রতি ওনার দায়বদ্ধতা রয়েছে। এখন যখন পশ্চিমবঙ্গে আমরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করছি। এই লড়াই লড়তে গিয়ে আমাদের দলের কর্মীদের প্রাণ পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। তাঁদের ঘর ছাড়া হতে হচ্ছে। এত কিছুর পরও আমরা মানুষের কাছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছি। কিন্তু সেই লড়াই কোথাও একটা জায়গায় ধুলোয় মিশে যাচ্ছে যখন দেখছি অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির মতো লোকেরা এই সকল চোর-জোচ্চোরদের হয়ে লড়ছেন সুপ্রিম কোর্টে”।
প্রসঙ্গত, এই প্রথমবার নয়, প্রদেশ কংগ্রেসকে এই ধরনের বিড়ম্বনায় আগেও পড়তে হয়েছে। এর আগে অধীর চৌধুরীর করা মেট্রো ডেয়ারি মামলায় অধীরের বিরুদ্ধেই লড়ার জন্য প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম কলকাতা হাইকোর্টে এসেছিলেন। সেই সময় কৌস্তভ-সহ অন্যান্য কংগ্রেস নেতারাতাঁকেও বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন।





