মুকুল রায়কে নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা যেন শেষ হতেই চায় না। নানান সময় নানান অসংলগ্ন মন্তব্য করে বারবার নিজের দল তৃণমূলকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন তিনি। তিনি আদৌ কোন রাজনৈতিক দলে রয়েছেন, তা হয়ত তিনি নিজেই ঠাওর করে উঠতে পারছেন না।
সম্প্রতি, বোলপুরের সার্কিট হাউজে বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের পাশে দাঁড়িয়েই তিনি বলেন, “পৌর নির্বাচনে সারা পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি বিপুলভাবে জয়ী হবে”। তখনই তাঁকে তখন মনে করিয়ে দেওয়া হয়, বিজেপি নয় তৃণমূল হবে। কিন্তু সহাস্যে নিজের বক্তব্যেই অনড় থাকেন তিনি। বেশ হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, “হ্যাঁ তৃণমূল তো বটেই। ভারতীয় জনতা পার্টি মানেই তৃণমূ”। এরপর ফের কেউ কেউ ভুল শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করেন ঠিকই, কিন্তু ততক্ষণে মুকুল রায় যা বলার বলে ফেলেছেন।
তাঁর এমন মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, “ওনার এইসব বক্তব্য দল অনুমোদন করে না। তাছাড়া উনি কোনও পদাধিকারীও নন যে, তাঁর এইসব বক্তব্যের কোনও গুরুত্ব আছে। সাম্প্রতিক সময়ে যা যা বলেছেন তার থেকে বোঝা যাচ্ছে মুকুল রায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন”।
এবার তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ মুকুল রায়ের এজেন মন্তব্য নিয়ে তাঁকে খোঁচা দেন। বলেন, “মুকুল রায় সোম, বুধ শুক্র একটা দল করেন, মঙ্গল বৃহস্পতি শনি আরেকটা দল করেন, রবিবার মাথার চিকিৎসা করান। এর বেশি আমি জানিনা”।
উল্লেখ্য, একুশের নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে বিজেপির টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়ে প্রায় কোনও প্রচার না করেই ভোটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন মুকুল রায়। কিন্তু ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরই তিনি ফিরে যান তাঁর পুরনো দল তৃণমূলে। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে দল বিরোধী আইন আনার দাবী তোলা হয় বিজেপির তরফে।
মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের জন্য বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানায় গেরুয়া শিবির। এই মামলা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। তবে সম্প্রতি আবার মুকুল রায়ের আইনজীবী বিধানসভায় স্পিকারের কক্ষে দাবী করেন যে মুকুল রায় বিজেপিতেই রয়েছেন। তিনি কখনই তৃণমূলে যোগ দেন নি। আর এদিকে মুকুল রায়ের বারবার এহেন মন্তব্যের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে বেশ শোরগোল পড়েছে।





