পুরভোটের আগে ফের ভাঙন গেরুয়া শিবিরে, তৃণমূলে ফিরলেন বিজেপি জেলা সহ-সভাপতি

পুরভোটের আগে ফের ভাঙনের চিত্র গেরুয়া শিবিরে। তৃণমূল ওয়াপসি করলেন জলপাইগুড়ির বিজেপির সহ-সভাপতি ধরতিমোহন রায়। দলীয় সূত্রে খবর, দলের সঙ্গে ক্রমেই তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল। একুশের নির্বাচনে ভোটের টিকিটও পান নি তিনি। ধরতিমোহনের অভিযোগ, তাঁকে দলে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল।

গতকাল রবিবাসরীয় বিকেলে তৃণমূল জেলা সভাপতি মহুয়া গোপের উপস্থিতিতে জলপাইগুড়ি তৃণমূল ভবনে জেলার চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায়ের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা তুলে নেন একদা তৃণমূল নেতা তথা জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ধরতিমোহন রায়।

এদিন তৃণমূলে যোগ দিয়ে ধরতি বাবু বলেন, ”তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেবার পেছনে অবশ্যই কিছু কারন ছিল। কিন্তু বিজেপিতে থাকাকালীন আমাকে একপ্রকার নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল। গুরুত্বহীন ছিলাম। এছাড়া তৃণমূল ছাড়ার পরেও দলের পক্ষ থেকে সব সময়ই যোগাযোগ রাখা হয়েছিল।

এই ঘটনায় জেলা বিজেপি নেতা অলোক চক্রবর্তী জানান, “ধরতিমোহন বাবু তৃণমূলে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তাই তিনি বিজেপিতে যোগ দেবার পরও আমরা তাঁকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে জেলার সহ-সভাপতি পদে নিয়েছিলাম”।

ধরতিমোহনকে বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট দেওয়া নিয়ে অলোক চক্রবর্তী বলেন, “ওঁর ধারণা ছিল তাঁকে বিজেপি বিধানসভার প্রার্থী হিসেবে টিকিট দেওয়া হবে। দলে এইভাবে টিকিট দেওয়া হয়না। টিকিট না পেয়ে দলের কাজ থেকে নিএষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিলেন। আজ জানতে পারলাম তিনি তৃনমূলে যোগ দিয়েছেন। তবে উনি দল ছেড়ে চলে যাওয়ায় দলের কোনও ক্ষতি হবে না”

বলে রাখি, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় জলপাইগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে ভোটে দাঁড়ান ধরতিমোহন। সেই সময় কংগ্রেসের তরফে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন ডঃ সুখবিলাস বর্মা। তবে নির্বাচনে হেরে যান ধরতিমোহন। এরপর তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে তৃণমূলের একাংশ কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁকে হারিয়েছে। এরপরই বিজেপিতে যোগ দেন ধরতিমোহন।

RELATED Articles