‘উনি বেশি বোঝেন, ওঁকে নিয়ে কোনও মন্তব্য করার প্রয়োজন নেই’, অনুব্রত প্রসঙ্গে কুণাল, ‘কেষ্ট’কে কী দল থেকে ছেঁটে ফেলার পরিকল্পনা?

রামপুরহাট কাণ্ডকেও সূচপুরের মামলার মতো সাজানো হোক, গতকাল এমনই মন্তব্য করেছিলেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তবে তাঁর যে সেই মন্তব্য দল ভালো চোখে দেখেনি তা কুণাল ঘোষের কথাতেই প্রমাণিত হল।

‘কেষ্ট’র এমন মন্তব্যে কার্যত বেশ রুষ্ট কুণাল। এই নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের মুখপাত্র বলেন, “অনুব্রত মন্ডল বড় নেতা। বেশি বোঝেন। ওনার কোনও কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমি কোনও মন্তব্য করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না”। আর এর থেকেই প্রশ্ন উঠছে যে তাহলে কী বীরভূমের দাপুটে নেতাকে এড়িয়ে যেতে চাইছে দল?

উল্লেখ্য, গতকাল, বৃহস্পতিবার বগটুই গ্রামে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে তিনি দেখা করে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হওয়া মৃতদের পরিজনদের সঙ্গে। সান্ত্বনা দেন তাদের। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দেখা যায় অনুব্রত মণ্ডলকে। তখনই তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি মন্তব্য করেন, “বগটুইয়ের গণহত্যায় সুচপুরের মত মামলা সাজানো উচিত”। বাংলার ইতিহাসে সূচপুর গণহত্যা এক কালিমালিপ্ত অধ্যায়।

আর বগটুই গণহত্যাকাণ্ডে সেই সূচপুরেরই প্রসঙ্গ তুলে আনার কারণে অনুব্রতর ওই মন্তব্যকে কোনওভাবেই মেনে নিতে পারে নি তৃণমূল। এই কারণেই দল তাঁর ওয়েম্ন মন্তব্য থেকে নিজেকে দূরেই রাখছে। আর তা কুণাল ঘোষের মন্তব্যে বেশ স্পষ্ট। তাঁর শরীরী ভাষাতেই অনুব্রতর প্রতি অসন্তোষ চোখে পড়েছে। এই কারণেই হয়ত ‘বড় নেতা’র কোনও মন্তব্যে প্রত্যুত্তর না দেওয়াকেই শ্রেয় বলে মনে করছেন তিনি।

RELATED Articles