‘দু’মুখো চিকিৎসকদের চিনে রাখুন, সরকারের কাছে তালিকা পাঠানো হবে…’, কাদের উদ্দেশে এমন কটাক্ষ কুণালের? তৃণমূল নেতার মন্তব্যে তুমুল বিতর্ক

আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলন অব্যাহত। আমরণ অনশন করছেন তারা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা হলেও অনশন প্রত্যাহার করতে নারাজ তারা। সোমবার নবান্নে বৈঠকের পরই এই নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন চিকিৎসকরা। এবার চিকিৎসকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।

জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলন নিয়ে প্রথম থেকেই নানান কটাক্ষ করেছেন কুণাল ঘোষ। নানান ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন, নানান অভিযোগও এনেছেন তিনি। এবার ফের তাঁর নিশানায় চিকিৎসকদের একাংশ। নন্দীগ্রামের বিজয়া সম্মিলনীতে যোগ দিয়ে চিকিৎসকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি যার জেরে ক্ষিপ্ত চিকিৎসক মহল।  

কুণাল বলেন, “সব চিকিৎসক নন, কিন্তু কিছু চিকিৎসক দু’মুখো। তাঁরা সরকারি হাসপাতালে কোনও মতে ২ থেকে ৩ দিন ডিউটি করে বাকি সময় বেসরকারি হাসপাতালে প্র্যাকটিস করছেন। এই দু’মুখো চিকিৎসকদের চিহ্নিত করুন। প্রেসক্রিপশনে দামী ওষুধ লিখে কোম্পানির টাকায় এরা বিদেশ ঘুরতে যায়। তাঁদের তালিকা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে”।

এখানেই শেষ নয়, তাঁর আরও দাবী, “রক্ত পরীক্ষা সহ নানা পরীক্ষা করতে দেন ডাক্তাররা। কিন্তু দেখে নেবেন যে ডাক্তার দিচ্ছেন তিনি যেন ল্যাব থেকে কমিশন খাওয়ার জন্য আপনার প্রেসক্রিপশনটাকে ব্যবহার না করে! যে ডাক্তাররা কমিশন খাবে তাঁদের নাম লিখে রাখুন”।

কুণালের এহেন মন্তব্যের বিরোধিতা করে এক প্রতিবাদী চিকিৎসক বলেন, “আমরা তো হাসপাতালে পরিকাঠামো বাড়ানোর কথা বলেছি। বায়োমেট্রিক চালু করুক। তাহলে দেখা যাবে কে থাকছে আর কে থাকছে না। যদি কেউ বেআইনি কাজ করে থাকে তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক সরকার। কিন্তু এই কথা বলে যদি আমাদের দশ দফা দাবি থেকে মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে আমরা তাঁর প্রতিবাদ জানাব। আগে আমাদের সমস্যার সমাধান হোক। আমরা সেটাই চাই”।

তৃণমূল নেতাকে পাল্টা জবাব দিয়ে জুনিয়র চিকিৎসক ত্রিনেশ মণ্ডল বলেন, “কেউ যদি ডিউটি ফাঁকি দেয় সেটা তো সরকারের দেখা উচিত। আমরা চাই রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সব ধরনের দুর্নীতি বন্ধ হোক। তবে এটাও বলা, উনি কি আন্দোলনের মুখ ঘুরিয়ে দিতে এসব কথা বলছেন”?

আরও পড়ুনঃ বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে ৩ বছরের শিশুকন্যাকে বাড়িতে ডেকে যৌন নির্যাতন, শিশুর যৌনাঙ্গে মিলল রক্ত, অভিযুক্ত পাড়ার দাদু 

এই বিষয়ে ক্ষোভ জারি করে চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী কুণালের উদ্দেশে বলেন, “ডাক্তারবাবুরা নিজেদের রোজগারের টাকায় বিদেশ ভ্রমণ করেন, ওনার মতো চিটফান্ডের টাকায় নয়”।

RELATED Articles