আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলন এখনও চলছে। আমরণ অনশন করছেন একাধিক চিকিৎসক। তবে বাকিরা পরিষেবা দিচ্ছেন। চিকিৎসকদের আন্দোলনের জন্য যে পরিষেবা মোটেই থেমে নেই, তা প্রমাণ করল কলকাতার এক সরকারি হাসপাতাল। বিরল অস্ত্রোপচার করে একরত্তির প্রাণ বাঁচালেন চিকিৎসকরা।
জানা গিয়েছে, মালদহের ২ দিনের এক নবজাতকের পেটে মেলে যমজ ভ্রূণ। তা জেনেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে পরিবার। ২ দিনের সেই সদ্যোজাতকে নিয়ে আসা হয় কলকাতার নীলরতন সরকার হাসপাতালে। সেখানে নবজাতকের কঠিন অস্ত্রোপচার করলেন এনআরএসের শল্য বিভাগের চিকিৎসকরা।
নবজাতকের যখন ২ দিন বয়স, তখন তাকে স্থানান্তরিত করা হয় এনআরএসে। এরপর তার চিকিৎসা করেন চিকিৎসকরা। ১৮ দিনের মাথায় ওই শিশুর বিরল অস্ত্রোপচার হয়। একরত্তির প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন এনআরএসের শল্য বিভাগের চিকিৎসকরা। শিশুটি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বলে খবর।
এই অস্ত্রোপচার সম্পর্কে এনআরএসের চিকিৎসক কৌশিক সাহা বলেন, “যখন যমজ বাচ্চা তৈরি হয়, তখন প্রকৃতির কিছু বেনিয়মের ফলে একটি বাচ্চার পেটের মধ্যেই আরেকটি ভ্রূণের অবশিষ্টাংশ ঢুকে যায়। সেখান থেকে রক্ত আহরণ করে বাড়তে থাকে। ওটা পরিপূর্ণ ভ্রূণ নয়। ওটা পার্সিয়াল ভ্রূণ, হাত-পা কিছুটা, শিরদাঁড়া কিছুটা, মাথার কিছুটা অংশ থাকে। আরও অদ্ভুত ব্যাপার এই বাচ্চাটির পেটের মধ্যে দুটি এরকম ভ্রূণ পাওয়া গিয়েছে”।
ওই চিকিৎসক আরও জানান, নবজাতকের পেটে যে দুটি যমজ ভ্রূণ মিলেছে, সেই ভ্রূণদুটির হাতের ও পায়ের আঙুলও তৈরি হয়েছিল যা খুবই অস্বাভাবিক। চিকিৎসক জানান, “নবজাতকের শরীরে আরেকটা ভ্রূণ তৈরি হয় অনেক সময়। কিন্তু এক নবজাতকের শরীরে দুটো ভ্রূণ তৈরি হওয়া, এটা আমার জীবনে আমি কখনও দেখিনি”।
আরও পড়ুনঃ ‘দু’মুখো চিকিৎসকদের চিনে রাখুন, সরকারের কাছে তালিকা পাঠানো হবে…’, কাদের উদ্দেশে এমন কটাক্ষ কুণালের? তৃণমূল নেতার মন্তব্যে তুমুল বিতর্ক
প্রসঙ্গত, জুনিয়র চিকিৎসকরা যখন কর্মবিরতি পালন করছিলেন, বা বর্তমানেও তাদের অনশন আন্দোলনের কারণে অনেকেরই দাবী, এর জেরে চিকিৎসা ব্যবস্থায় ক্ষতি হচ্ছে। পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। তবে অনশনকারী চিকিৎসক পুলস্ত্য আচার্য যিনি অনশনের জেরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে দেন। তাঁর দাবী, “অনশন মঞ্চে যাঁরা বসে রয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই কাজ করছেন। কাজের পর তাঁরা অনশন মঞ্চে যাচ্ছেন। ভলেন্টিয়ারি তাঁরা থাকছেন। রাতে অনশনকারীদের সঙ্গে থাকছেন। আমরা যাঁরা অনশন করছি, তাঁদের দেখভাল করেছেন। যেন ভুল বার্তা না পৌঁছয়, মানুষের কাছে, যে চিকিৎসা পরিষেবা মানুষ পাচ্ছেন না”।





