মমতার দুয়ারেই ফিরতে চান শুভেন্দু, সেই জন্যই এমন ঘুরঘুর করছেন, বিরোধী দলনেতাকে নিয়ে বড় দাবী কুণালের

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ায় একাধিক কর্মসূচি নেওয়ার জন্য দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পরামর্শ দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এও জানিয়েছেন যে তিনি নিজেও ওই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। শুভেন্দুর এহেন পরামর্শকে পাগলের প্রলাপ বলে কটাক্ষ করল ঘাসফুল শিবির।

গত মঙ্গলবার নিউ আলিপুর এলাকার রাজস্থান ভবনে দক্ষিণ কলকাতার লোকসভা কেন্দ্রের প্রবাস কর্মসূচিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই তিনি জানান যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ার মানুষ তৃণমূলের উপর বেশ বিরক্ত। কিন্তু ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না। এরপরই শুভেন্দু জানান ওই এলাকায় এবার থেকে কর্মসূচি করতে হবে। শুধু নির্বাচনের সময়ই নয়, সারা বছর ধরেই কর্মসূচি করতে হবে ওই এলাকায়।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিধানসভা-ভিত্তিক ফলাফলের নিরিখে মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে সামান্য ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বিজেপি। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচন এবং উপনির্বাচনে, এমনকি, কলকাতা পুরসভা নির্বাচনেও এই বিধানসভা কেন্দ্রে বিপুল ভোটে পিছিয়ে পড়ে বিজেপি। এর পাশাপাশি দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায়ের সঙ্গে রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরোধের প্রসঙ্গ টেনে এনে শুভেন্দু জানান, যে জায়গাগুলিতে তৃণমূলের নিজেদের মধ্যে সমস্যা রয়েছে, সেই এলাকায় বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে ঘাঁটি শক্ত করতে হবে।

তবে শুভেন্দুর এই কথাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই বিষয়ে বলেন, “শুভেন্দু ব্যক্তিকেন্দ্রিক, প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন। যে দিন বিজেপি গাড্ডায় পড়বে, সে দিন উনিই প্রথম দুয়ারে সরকারের ফর্ম ভরে মমতাদির কাছে তৃণমূলে ফেরার আবেদন করবেন। তাই আগে থেকে বাড়ির সামনে ঘুরঘুর শুরু করতে চাইছেন”।

এদিকে রাজ্যে এখন চলছে তৃণমূলের নবজোয়ার কর্মসূচি। এরই মাঝে এবার ‘গ্রাম সম্পর্ক অভিযান’-এর দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করতে চলেছে বিজেপি যুব মোর্চা। ৪০ দিন ধরে রাজ্যের ২০০টি বিধানসভা এলাকায় ঘুরবেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ। আসতে পারেন সর্বভারতীয় সভাপতি তেজস্বী সূর্যও।

জানা গিয়েছে, এক একটি গ্রাম সংসদ এলাকায় পাঁচ কিলোমিটার পদযাত্রা হবে। হবে হাট-সভা ও চাটাই বৈঠকও। এই কর্মসূচি শুরু হবে উত্তরবঙ্গে জলপাইগুড়ির মোহনভিটা, জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রামের আশাকাঠি ও গঙ্গাসাগরের চেমাগুড়ি বাজার থেকে। আগামী ৩০শে জুনের মধ্যে এই কর্মসূচি শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে গেরুয়া শিবিরের।

আরও অন্যান্য খবর