‘শুভেন্দুর গাড়ি করে বাইরে থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা ও বেআইনি অস্ত্র ঢুকছে নন্দীগ্রামে’, শুভেন্দুর গড়ে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ কুণালের

দলের তরফে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) গড়েই নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। নন্দীগ্রামে (Nandigram) নতুন দায়িত্ব পেয়ে তিনি বলেছিলেন, “এখানকার নেতারা ভালো কাজ করছেন। আমি শুধু সময় দিতে এসেছি। তাঁদের সহযোগিতা করতে এসেছি। নেতা হতে আসিনি”। এবার শুভেন্দুর গড়ে দাঁড়িয়েই তাঁকে চাঁচাছোলা আক্রমণ শানালেন তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।

গতকাল, বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কুণাল ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, “নন্দীগ্রামের বিভিন্ন পল্লি থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে থাকা শুভেন্দুর কনভয় নিয়ে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন, ওই গাড়িতে করে বাইরে থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা ও বেআইনি অস্ত্র ঢুকছে নন্দীগ্রামে। বিজেপিতে যে ধস শুরু হয়েছে তা আটকাতেই বাইরে থেকে প্রচুর টাকা নিয়ে এসে পাড়ায় পাড়ায় ছড়াতে শুরু করেছেন বিরোধী দলনেতা। টাকা ছড়িয়ে দল ছেড়ে যেতে চাওয়া কর্মীদের আটকানোর চেষ্টা করছে লোডশেডিংয়ে জেতা বিজেপি নেতা”।

তৃণমূল মুখপাত্রের আরও দাবী, “পুলিশকে বলব, নাকা চেকিংয়ে শুভেন্দুর কনভয় আটকে মাঝে গাড়িতে তল্লাশি চালানো হোক। তা হলেই প্রমাণ হয়ে যাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে থাকা কনভয়ের সুবিধা নিয়ে কীভাবে বেআইনি পাচারচক্র চালাচ্ছে শুভেন্দু”।

এদিন গোটা দিনই পূর্ব মেদিনীপুরে নানান বৈঠক ও কর্মসূচিতে যোগ দেন কুণাল ঘোষ। আর প্রতিটা সভা থেকেই এইন শুভেন্দু অধিকারীকে নানানভাবে আক্রমণ করেন তিনি। শুভেন্দু এক সভায় বলেছিলেন, “তৃণমূল নেতাদের বক্তব্যের ৮০ শতাংশই তাঁকে নিয়ে থাকছে”। সাংবাদিকদের কাছে শুভেন্দুর এমন অভিযোগ শুনে স্পষ্ট জবাব দেন কুণাল ঘোষ। বলেন, “ওকে শুনতে হবে কারণ, তৃণমূলে থাকার সময় জেলায় ৮০ শতাংশ পদ ও ক্ষমতা অধিকারীরা ভোগ করেছে। নিজে ও বাপ-ভাই সব লুটেপুটে খেয়েছে, তাই ওদের কুকীর্তির কথা তো শুনতেই হবে”।

বলে রাখি, গতকাল, বুধবার সকালে উত্তর কাঁথির মুকুন্দপুর বাজারে সকালে চা-চক্রে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। সাধারণ মানুষের খোলামেলা নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। কাঁথি পুরসভার ভাইস চেয়ারম‌্যান সুপ্রকাশ গিরি ও জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তরুণ জানা এই চা চক্রে উপস্থিত ছিলেন। এরপর কুণাল যান বসন্তিয়া মক্ত‌ব। সেখানে পতাকা তোলেন ও বক্তব‌্য রাখেন তিনি।

এরপর সোজা চলে যান রঘুরামপুরের রেডসান ক্লাবে। সেখানেও জনতার অনুরোধে বক্তব‌্য রাখতে হয় কুণালকে। তারপর তিনি সভা করেন জুনপুটের আলদারপুর বাজারে গিয়েও। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতির্ময় কর। এরপর কাঁথি ফিরে দলীয় একাধিক সাংগঠনিক বৈঠক সেরে পটাশপুরের বিশাল জনসভায় পৌঁছন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক।

RELATED Articles