লাগামছাড়া দুর্নীতি! ১৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ইডি-র জেরায় বিস্ফোরক দাবী নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত কুন্তলের

ইডি-র জেরার মুখে পড়ে এক বিস্ফোরক দাবী করলেন শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত কুন্তল ঘোষ। তিনি জেরায় স্বীকার করে নেন যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। তৃণমূল যুব নেতা এও দাবী করেছেন যে পার্থর সেক্রেটারির হাত দিয়েই তাঁকে ১৫ কোটি টাকা পাঠিয়েছিলেন তিনি।

প্রথমদিকে কুন্তল ঘোষ ইডি আধিকারিকদের তদন্তে অসহযোগিতা করছিলেন বটে তবে টানা জেরায় ভেঙে পড়েন তিনি। তদন্তকারীদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেছেন কুন্তল। তিনি দাবী করেন যে তিনি পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ১৫ কোটি টাকা দিয়েছেন। তবে একসঙ্গে বিপুল টাকা দেননি কুন্তল। কখনও নাকতলার অফিস আবার কখনও শপিং মলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সেক্রেটারির সঙ্গে দেখা করতেন কুন্তল। তাঁর হাত দিয়ে টাকা সরাসরি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাতে পৌঁছে যেত।

ইডি আধিকারিকদের মতে, কুন্তলের এই স্বীকারোক্তি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। তবে দুর্নীতির শিকড় যে বেশ গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা নিয়ে নিশ্চিত ইডি আধিকারিকরা। এর আগে কুন্তলের দুটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে একটি ধূসর রঙের ডায়েরি উদ্ধার করে ইডি যাতে তাপস মণ্ডলের নাম উল্লেখ করা রয়েছে।

কুন্তল ও তাপসকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরার সময় সেই ডায়েরিটি সামনে রাখা হয়। সেই ডায়েরিতে ১৯ কোটি টাকার হিসাবের উল্লেখ করা রয়েছে। তাপস দাবী করেন যে সেই টাকা তিনি কুন্তলকে দিয়েছিলেন। সেই টাকা দেওয়ার প্রেক্ষিতে নথিও দেখান তাপস যেখানে কুন্তলে সই ছিল। কুন্তলও স্বীকার করেন যে তিনি তাপসের থেকে ১৯ কোটি টাকা নিয়েছিলেন।

এদিকে আবার ফের হুগলি জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে ইডি। গতকাল, বৃহস্পতিবার তাঁকে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা জেরা করা হয়েছিল। তাঁর বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে ২০১৪ ও ২০১৭-এর টেট পরীক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ডের ফটোকপি পেয়েছে ইডি। তাদের কথায়, নিয়োগ দুর্নীতিতে টাকা তোলার জন্য ওই ফটো কপি সংগ্রহ করা হয়েছিল চাকরিপ্রার্থীদের থেকে। সেই সমস্ত চাকরিপ্রার্থীরা প্রাথমিকে চাকরি পেয়েছিলেন কী না, যা যাচাই করতেই ফের শান্তনুকে তলব করেছে ইডি।

RELATED Articles