ভারতমায়ের বীর সন্তানকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জনস্রোতে ভাসলো বীরভূম, গান স্যালুটে শেষ বিদায় রাজেশের

দেশমায়ের কোলে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ল মায়ের এক বীরপুত্র। ১৫ই জুন লাদাখ সীমান্তে শহিদ হন রাজেশ ওরাওঁ। তারপর আজ তাঁর দেহ বীরভূমে এসে পৌঁছালে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ভিড় জমে রাস্তায়।শুক্রবার সকালে রাস্তার দু’ধারে জনস্রোত পেরিয়ে মহম্মদবাজারে বেলগড়িয়ায় এসে পৌঁছয় শহিদের দেহ। চোখের জলে এক তরুণের বিদায় যাত্রায় সামিল হল আত্মীয় এবং প্রতিবেশীরা।

বৃহস্পতিবার রাতে পানাগড়ে এসে পৌঁছায় রাজেশের দেহ। শুক্রবার সকালে সেখানে তাঁকে গান স্যালুটে সন্মান জানান সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এর পর অন্তিম যাত্রাপথের দিকে এগোতে থাকে সময়। সেনাবাহিনীর মরদেহবাহী শকটে করে রাজেশের দেহ নিয়ে যাওয়া হয় বীরভূমের প্রত্যন্ত বেলগড়িয়ার উদ্দেশে।

কিন্তু ততক্ষণে এই খবর চারিদিকে বিদ্যুৎবেগে ছড়িয়ে পড়েছে। ভারত মায়ের এই বীরপুত্রকে দেখতে তখন ভিড় জমেছে রাস্তায়। কেউ চোখের জলে, কেউ বা আবার স্লোগানে বীরকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। শেষযাত্রায় বীরভূম জেলায় গাড়ি ঢুকলে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দুস্কর হয়ে পড়ে। দুবরাজপুর – সিউড়ি হয়ে মহম্মদবাজার পৌঁছতে সাধারণত সময় লাগে ৪৫ মিনিট। সেই পথ পেরোতে আজ সময় লেগেছে প্রায় ২ ঘণ্টা।

সকাল ৯.৩০ মিনিট নাগাদ গ্রামে পৌঁছায় শহিদ রাজেশের মরদেহ। সেখানে তাঁকে সন্মান জানাতে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান শাসক থেকে বিরোধী দলের উচ্চস্তরের নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা। যার মধ্যে ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল, লকেট চট্টোপাধ্যায়, সৌমিত্র খাঁ প্রমুখ। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তরফে সেখানে শহিদকে গান স্যালুট দেওয়া হয়। এর পর বাড়ির সামনেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।

সোমবার লাদাখের গালওয়ান সীমান্তে চীনের অতর্কিত আক্রমণে জবাব দিতে গিয়ে শহিদ হন ২০ জন ভারতীয় সৈনিক। তার মধ্যে ২ জন ছিলেন এই রাজ্যের। রাজেশ ছাড়াও দেশমায়ের জন্য শহীদ হয়েছেন আলিপুরদুয়ারের বিপুল রায়। এদিন তাঁর দেহও পৌঁছেছে গ্রামে।

আরও অন্যান্য খবর