শুরুর আগেই বিপত্তি, লোকাল ট্রেন-এর মান্থলি পাস পুনর্নবীকরণ করতে গিয়ে বারবার লিঙ্ক বিভ্রাট

আগামী ১১ই নভেম্বর বুধবার থেকেই ফের রাজ্যে চালু হচ্ছে লোকাল ট্রেন পরিষেবা। এর আগেই রেলের তরফ থেকে স্টেশনে স্টেশনে শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। গত ২২শে মার্চ জনতা কার্ফুর পর থেকেই বন্ধ লোকাল ট্রেন। কিন্তু সেই সময় যারা মাসিক টিকিট ইস্যু করেছিলেন, তারা পড়েছিলেন বিপদে। সেই টিকিটের বৈধতা কবেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু সেই টিকিট জলে যাবে না, এমনটাই জানা গিয়েছিল। সোমবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে সেই টিকিটগুলির তারিখ বাড়ানোর পদ্ধতি। আর এখানেই ঘটল বিপদ।

গড়িয়া থেকে বালিগঞ্জ, বিভিন্ন স্টেশনেই মিলল একই ছবি। মাসিক টিকিট পুনর্নবীকরণ করতে গেলেই অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। বারবার লিঙ্ক ফেল হয়ে যাচ্ছে। লিঙ্কের সমস্যার কারণে সকাল ৮টার এক ঘণ্টা পরও মাসিক পাস পুনর্নবীকরণ প্রক্রিয়া করা সম্ভব হয়নি। অনেক যাত্রীই খোঁজ নিতে এসে ফিরে যান। রেলের সূত্রের খবর, লিঙ্কের সমস্যার কারণেই এই বিপত্তি। আবার অনেকে অনুমান করছেন, দীর্ঘদিন কাজ না হওয়ার ফলে সিস্টেম বন্ধ ছিল, তাই এমন হতে পারেন। তবে রেলের তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, এই সমস্যার দ্রুতই নিরাময় করা হবে।

অন্যদিকে, রেলের শেষ প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সোমবারই ১০ জেলার পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব। লোকাল ট্রেন চালু হলে তা কোথায় কোথায় চলবে, ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মে ভিড় কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, এ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রবিবার রাজ্যবাসীর উদ্দেশে লোকাল ট্রেন চালানো নিয়ে ট্যুইট করেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি লেখেন, “১১ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গবাসীর সুবিধার্থে শহরতলিতে ৬৯৬টি লোকাল ট্রেন চালাবে রেল। যাবতীয় সুরক্ষাবিধি মেনেই ট্রেন চালানো হবে”। এদিকে লোকাল ট্রেন চালু হওয়ায় স্বভাবতই খুব খুশি রাজ্যবাসী। তবে সুরক্ষাবিধি মেনে ঠিকঠাক পরিষেবা কীভাবে সম্ভবপর হবে, এ বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, রেল সূত্রের পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রতিদিন ৬৯৬টি ট্রেন চলবে রাজ্যে। এর মধ্যে শিয়ালদহ ডিভিশনে চলবে ৪১৩টি ট্রেন। শিয়ালদা উত্তর ও মেইন শাখায় চলবে ২৭০টি ট্রেন। শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় ১৪৩টি ট্রেন চলবে। হাওড়া ডিভিশনে ২০২টি ট্রেন চলবে। বাকি ৮১টি ট্রেন চলবে খড়গপুর ডিভিশনে।

RELATED Articles