“বেড়ালের গলায় ঘণ্টা বেঁধে দিয়েছি, তৃণমূলে আর ফিরব না”, তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক মিহির গোস্বামী

অনেকদিন ধরেই তাকে নিয়ে রাজনৈতিক অন্দরে আলোচনা চলছিল। কিছুদিন আগেই ফেসবুকে তার পোস্ট ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। ঠিক কি কারণে তৃণমূলের দলনেত্রীর উপর আস্থা হারিয়েছেন তিনি, তা সবিস্তারে জানান। আজ, সোমবার নিজের কার্যালয়ে এসে সাংবাদিক বৈঠক করেন কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক মিহির গোস্বামী। এই বৈঠকে আরও একবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন বর্ষীয়ান নেতা। তিনি জানান যে, বেড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার কাজটা তিনি করে দিয়েছেন, এবার বাকিদের দায়িত্ব।

কিছুদিন আগেই দলের পঞ্চায়েতদের উদ্দেশ্য করে উদয়ন গুহ যা বলেছেন, তাতে এটাই প্রমাণিত হয় যে তৃণমূলের নিচুতলার নেতারা দুর্নীতিগ্রস্ত। কিন্তু এদিন মিহিরবাবু বলেন যে, শুধু নিচুতলার কেন, তৃণমূলের উঁচুতলার নেতারাও দুর্নীতিগ্রস্ত।

মিহিরবাবু জানান, দোলা সেনও একই কথা বলে দলের নিচুতলার নেতাকর্মীদের অপমান করেছেন। তিনি জানান, দোলার বক্তব্য পঁচাত্তর শতাংশ নিজে রাখুন ও পঁচিশ শতাংশ নিজে রাখুন, মিহিরবাবুর এখানেই আপত্তি। তিনি জানান, এমন কথা বলে তো দোলা দলের দুর্নীতিগ্রস্ত বিষয়টিকেই তুলে ধরলেন। মিহিরবাবু বলেন, যেসব বিধায়ক ও সাংসদ দলীয়কর্মীদের এভাবে অপমান করছেন, তাদের একবার নিজের দিকটাও দেখা উচিত।

তবে তাঁর সবচেয়ে ক্ষোভের জায়গা উত্তরবঙ্গ। তিনি জানান, তৃণমূল দলনেত্রী কোচবিহারে এসে নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিলেও, তা কিছুই পূরণ করেন নি। এছাড়াও তিনি জানান যে, দলে তিনি অসংখ্যবার অপমানিত হতে হয়েছে কিন্তু তা সহ্য করেও দিদির পাশে থেকেছেন তিনি। দিদির সব কিছুই কলকাতাকেন্দ্রিক।

গত মাসের ৩ই অক্টোবরই তিনি দলের সব দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। নিজের কার্যালয়ের সমস্ত তৃণমূল পতাকা ও ব্যানার খুলে ফেলেন মিহিরবাবু। এরপর নতুন ব্যানারে লেখা হয়, “কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক মিহির গোস্বামীর কার্যালয়”। কার্যালয়ের মধ্যে থাকা মুখ্যমন্ত্রীর ছবি সরিয়ে সেই জায়গায় লাগানো হয় রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, নেতাজির মতো মনিষীর ছবি। কিন্তু পরবর্তীকালে কোন দলে যোগ দেবেন, এ বিষয়ে কিছু স্পষ্ট করেননি মিহিরবাবু।

তাঁর কথায়, অনেকেই তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, বিজেপির সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক তাঁর বাড়িতেও গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি এখনও কিছু ঠিক করেননি। তবে একটা কথা স্পষ্ট যে, তিনি তৃণমূলে আর ফিরবেন না।

এদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, তাঁর সাফ জবাব যে শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ৪০ বছরের সম্পর্ক। এই বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না।

RELATED Articles