খিচুড়িতে ভাসছে কালো কালো পোকা ও লার্ভা, অঙ্গনওয়াড়ির মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে অসুস্থ একাধিক শিশু

মিড ডে মিলের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ নতুন কোনও ঘটনা নয়। মাঝেমধ্যেই শোনা যায় মিড ডে মিলের খাবারে পোকা, মরা সাপ, টিকটিকি মেলার ঘটনা। এবার অঙ্গনওয়াড়ির খিচুড়িতে মিলল পোকা ও লার্ভা। আর তা খেয়ে অসুস্থ গ্রামের একাধিক শিশু। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা।

কী ঘটেছে ঘটনাটি?

এই ঘটনাটি ঘটেছে বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের পারঘুমটে ২৪০ নম্বর বুথের একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই কেন্দ্র থেকে যে খাবার দেওয়া হয়, তাতে মাঝেমধ্যেই পোকা ও লার্ভা ভাসতে দেখা যায়।

তাদের কথায়, প্রথমদিন তারা ভেবেছিলেন হয়ত খিচুড়ির মধ্যে জিরে ফোঁড়ন দেওয়া রয়েছে। তবে ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় তা আসলে পোকা। রান্নায় পুড়ে গিয়ে কালো কালো হয়ে গিয়েছে তা। সেই খাবার খেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেক শিশু।

এলাকাবাসীরা জানান, এই নিয়ে দিদিমণি ও রাঁধুনিদের জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। কিছুদিন ধরে ডিমও দেওয়া হচ্ছিল না। পরে প্রশাসনিক স্তরে নালিশ জানালে ডিম দেওয়া ফের চালু হয়। গ্রামবাসীরা জানান, পোকায় ভরা খিচুড়ি খেয়ে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এখনও কয়েকজন সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি বলে জানান তারা।

তাদের আরও অভিযোগ, পোকা ধরা চাল-ডাল দিয়েই খিচুড়ি রান্না হয়। রান্নাঘরের অবস্থাও ভালো নয়। বৃষ্টি হলেই জল চুঁইয়ে পড়ে। সেই জল ড্রামে ধরে রেখে ওই জল দিয়েই রান্না হয়। এই করে শিশু ও মায়েদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে।

এই বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সুরজিৎ বর্মণের দাবী, “কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় আইসিডিএস চলে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার গত দেড় বছর ধরে কোনও অর্থ দেয় না। সেই কারণে এই অসুবিধা। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিরসন করার চেষ্টা করব”।

এই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর কথায়, “আমরা চাল বেছেই রান্না করছি। আসলে চাল থাকা সত্ত্বেও ফের চাল দিয়ে যাচ্ছে সেই কারণে আগের চালে পোকা ধরছে”।

আরও অন্যান্য খবর